বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বরিশালে মাদক মামলার আসামি এএসআইয়ের থানা থেকে পলায়ন

বরিশালে মাদক মামলার আসামি এএসআইয়ের থানা থেকে পলায়ন

বরিশালে মাদক মামলার আসামি এএসআইয়ের থানা থেকে পলায়ন

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে বরিশাল সদর উপজেলার রায় পয়সা করাপুর নামক স্থানে মিরাজু্লের টিন সেট একটি বিল্ডিং এর ভেতর মোট চার জনকে আটক করে ।পুলিশ কর্মকর্তাকে বিমানবন্দর থানায় লিখিত নোট দিয়ে হস্তান্তর করে বাকি তিন জনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে নিয়ে যায় । পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে বেরিয়ে গেলেন—উঠছে নানা প্রশ্ন

 

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় আটক এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেনের থানা থেকে চলে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আটক অবস্থায় তিনি কীভাবে থানা থেকে বেরিয়ে গেলেন, এ ঘটনায় কোনো দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না এবং তাঁকে পালাতে কেউ সহযোগিতা করেছেন কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্য ও উত্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকের আসর থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে এএসআই দেলোয়ার হোসেন থানা থেকে চলে যাওয়ার খবর সামনে আসে। তবে তাঁর চলে যাওয়ার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং এ ক্ষেত্রে অন্য কারও সহযোগিতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ওসির বক্তব্য

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম এএসআই দেলোয়ারের চলে যাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, “পালায়নি, আর পালিয়ে যাবেই বা কোথায়। সরকারি চাকরি করে না! হয়তো শাস্তি হবে বলে ভয় পেয়ে কোথাও গিয়েছে। গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

ওসির এই বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনাটি সম্পর্কে থানার আনুষ্ঠানিক নথি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং আটক ব্যক্তির হেফাজত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি যাচাই করা জরুরি।

মাদক ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ

এএসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, কথিত সহযোগীদের মাধ্যমে মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাংবাদিকদের হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে। এ ছাড়া বিমানবন্দর থানা এলাকার কয়েকটি বাসা ও ফ্ল্যাটে নারীদের ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অভিযোগগুলোর পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি

এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, ক্ষমতার অপব্যবহার, সাংবাদিক হয়রানি কিংবা আটক অবস্থা থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে থানা হেফাজতে থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম ছিল কি না এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নেরও স্বচ্ছ উত্তর চান সচেতন নাগরিকেরা।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি আরও সমৃদ্ধ করা হবে।

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়!
এলাকাবাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স—অভিযান অব্যাহত থাকুক
মাদক ব্যবসায় আরো কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত কি না, নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট বিচারের দাবির প্রত্যাশা।

 

 

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি: আতিকুল ইসলাম রমিম