শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজবাড়ীর পাংশায় ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের ভরণপোষণ দেবে রাষ্ট্র

রাজবাড়ীর পাংশায় ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের ভরণপোষণ দেবে রাষ্ট্র

রাজবাড়ীর পাংশায় ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের ভরণপোষণ দেবে রাষ্ট্র

রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় মো. ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর সন্তান ২১ বছর বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তৌহিদুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক পাংশা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খার ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ মে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তালাকপ্রাপ্ত নারী মোছা. রেখা খাতুনকে খোকসা রেলস্টেশনসংলগ্ন এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন ফারুক। পরে বিয়ের কাগজপত্র তৈরির কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে প্রায় দুই মাস অবস্থানকালে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে রেখা গর্ভবতী হলে ফারুক বিয়ে অস্বীকার করেন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। পরে রেখা বাড়িতে ফিরে আদালতে নালিশি দরখাস্ত করেন। আদালতের নির্দেশে পাংশা থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে রেখা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন, যার নাম রাফিউল হোসেন।

আদালত রায়ে ফারুকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। এ ছাড়া রাফিউলকে ফারুকের জৈবিক সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইনানুগ অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সন্তানের ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রাজবাড়ীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, “আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ এবং সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ রায় নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে।

 

মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: