চরিত্রের ভেতর কত গভীরে একজন অভিনেতা ডুবে যেতে পারেন, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্যার রজার জর্জ মুর।
সাতটি জেমস বন্ড সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বজোড়া কিংবদন্তি। টানা ১২ বছর (১৯৭৩–১৯৮৫) ‘ডাবল ও সেভেন’ চরিত্রে তার উপস্থিতি পর্দায় এক স্বর্ণযুগ রচনা করে।
‘লিভ অ্যান্ড লেট ডাই’ (১৯৭৩) দিয়ে শুরু, তারপর ‘দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান’, ‘দ্য স্পাই হু লাভড মি’, ‘মুনরেকার’, ‘ফর ইয়োর আইজ অনলি’, ‘অক্টোপুসি’, এবং ‘আ ভিউ টু অ্যা কিল’— প্রতিটি ছবিতেই রজার মুরের রসবোধ, স্টাইল, ও সংযত আকর্ষণ দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন পায়।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,
“সারা জীবন আমাকে বন্ড বলে লোকে জানলেও তো কোনও ক্ষতি নেই।”
বন্ড চরিত্রের এমন মর্মস্পর্শী আত্মীকরণ খুব কম অভিনেতার ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।
তবে শুধুই বন্ড নয়—
রজার মুর ছিলেন টেলিভিশনেরও উজ্জ্বল নক্ষত্র।
‘দ্য সেন্ট’ সিরিজে সাইমন টেম্পলার চরিত্রে, ‘দ্য পারসুয়েডারস!’-এ টনি কার্টিসের সঙ্গে যুগল পারফরম্যান্সে, আর ‘ম্যাভেরিক’-এ তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় আজও স্মরণীয়।
এমনকি তিনি ‘শার্লক হোমস ইন নিউ ইয়র্ক’ সিনেমায় বিখ্যাত গোয়েন্দার ভূমিকাতেও অভিনয় করেন সাফল্যের সঙ্গে।
লন্ডনে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা এক পুলিশ কর্মকর্তার সন্তান। শিল্পপ্রেমী রজার প্রথমে কার্টুন অ্যানিমেটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘুরল সিনেমার পর্দায়—প্রথম দিকে ব্যর্থ হলেও, টেলিভিশনেই তিনি খুঁজে পান নিজের জায়গা। পরে যখন বন্ড চরিত্রে ডাক আসে, তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় গুপ্তচর।
অভিনয়ের বাইরে মানবিক দায়িত্বও পালন করেছেন রজার মুর। ১৯৯১ সাল থেকে ইউনিসেফের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেন। মানবসেবার জন্য তিনি পান রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের নাইট উপাধি (Sir) এবং ফরাসি সরকারের ‘অর্ড্রে দে আর্টস এ দে লেত্র’ কমান্ডার সম্মান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালেও তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন।
জীবনের শেষ দিকে অসংখ্য শারীরিক লড়াই সত্ত্বেও লড়াকু মনোবল হারাননি তিনি। স্কিন ক্যানসার, টাইপ টু ডায়াবেটিস, নিউমোনিয়া—সবকিছুর সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন হাসিমুখে। অবশেষে ২০১৭ সালে সুইজারল্যান্ডে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—
“জেমস বন্ডের মৃত্যু কি আদৌ সম্ভব?”
স্যার রজার মুর আছেন, থাকবেন—
চলচ্চিত্র ইতিহাসে, এবং কোটি দর্শকের হৃদয়ে।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা