ঢালিউডের এক সময়ের পর্দা কাঁপানো জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রানী—যাঁর আসল নাম রেজিনা হক, কিন্তু দর্শকের কাছে তিনি চিরকালই প্রিয় রানী নামেই পরিচিত।
১৯৮৬ সালে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘আঁখি মিলন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রজগতে তাঁর অভিষেক ঘটে। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন প্রবীণ ও দক্ষ অভিনেতা প্রবীর মিত্র। প্রথম ছবিতেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান রানী—এবং শুরু হয় তাঁর রুপালি যাত্রা।
পরবর্তী সময়ে তিনি একে একে অভিনয় করেন বহু সফল ও ব্যবসাসফল ছবিতে—
স্বামীর আদেশ, শাহী খান্দান, অবদান, ছোট বউ, প্রেম লড়াই, পাষান, জীবন দিয়ে ভালোবাসি, ভাগ্যবতী, পরিস্থান, দাগী, সালমা, দেশ দুশমন, মালামাল, দাঙ্গা ফ্যাসাদসহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে।
তাঁর অন্যতম সাফল্যের ছবি ‘ছোট বউ’—যেখানে মান্না, জসিম, কবরী ও খান আতাউর রহমানের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন।
রানী ছিলেন সামাজিক ও পারিবারিক ধারার চলচ্চিত্রের অত্যন্ত দক্ষ শিল্পী। তাঁর অভিনয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মিষ্টি হাসি ও প্রাঞ্জল এক্সপ্রেশন—যা দর্শককে সহজেই মুগ্ধ করত।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজক হিসেবেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ রেখেছেন। ১৯৯৬ সালে তাঁর প্রযোজিত ‘বশিরা’ চলচ্চিত্রটি সে বছরের অন্যতম সুপারহিট ছবি ছিল। এই ছবিতেও তাঁর নায়ক ছিলেন মান্না।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু গানও দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিল—
‘অবদান’ ছবির “মন একবার ভালোবাসে যারে” (জাফর ইকবালের বিপরীতে)
‘বিদ্রোহী সন্তান’ ছবির “তোমাকে আমি ভালোবাসি / এ কথার আগে পরে কোনো কথা নেই”
বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে রানী নিজেকে এক সময়ের শীর্ষ অভিনেত্রীদের সারিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্রজগৎ থেকে অনেকটাই দূরে, শান্ত ও নিভৃত জীবন কাটাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গে।
আজ তাঁর জন্মদিনে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা ।তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী জীবন কামনা করি।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা