বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান- এর শুভ জন্মদিন আজ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান- এর শুভ জন্মদিন আজ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান- এর শুভ জন্মদিন আজ

সোহানুর রহমান সোহান—বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের এক প্রখ্যাত পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি শুধু একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাই ছিলেন না, ছিলেন নতুন প্রতিভা আবিষ্কার ও তাঁদের তারকাখ্যাতির পথে এগিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারিগর। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পেয়েছে দুই প্রজন্মের জনপ্রিয় তারকা সালমান শাহ ও শাকিব খানের মতো অভিনেতাদের আগমনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


জন্ম: ১৫ অক্টোবর, ১৯৬০
জন্মস্থান: ফুলবাড়ী, বগুড়া, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
পরিচয়: চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার


শৈশব, শিক্ষা ও চলচ্চিত্রে পথচলা
১৯৬০ সালের ১৫ অক্টোবর বগুড়া জেলার ফুলবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন সোহানুর রহমান সোহান। ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহই একসময় তাঁকে টেনে নিয়ে আসে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে।
জয়পুরহাটে পড়াশোনা শেষে চলচ্চিত্র নির্মাণের জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করতে তিনি কাজ শুরু করেন প্রখ্যাত পরিচালক শিবলী সাদিকের সহকারী হিসেবে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে, ১৯৭৭ সালে চলচ্চিত্রে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয় বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। সহকারী হিসেবে কাজ করতে করতেই তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা কৌশল ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

 

পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ
১৯৮৮ সালে ‘বিশ্বাস অবিশ্বাস’ চলচ্চিত্র পরিচালনার মধ্য দিয়ে পরিচালক হিসেবে নিজের যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলেন।


বিশেষ করে রোমান্টিক গল্প, আবেগঘন দৃশ্য এবং প্রেম-ভালোবাসার সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী উপস্থাপনার জন্য তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো নব্বইয়ের দশকের বাংলা সিনেমার রোমান্টিক ধারাকে জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’—বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়
১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কালজয়ী রোমান্টিক চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। এই ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সালমান শাহ ও মৌসুমীর। তাঁদের অনবদ্য অভিনয়, পর্দায় রসায়ন এবং ছবিটির জনপ্রিয়তা বাংলা চলচ্চিত্রে এক নতুন রোমান্টিক আবহ তৈরি করে।


সালমান শাহ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও স্মরণীয় নায়কে পরিণত হন। তাঁর অসাধারণ তারকাখ্যাতির সূচনাপর্বে সোহানুর রহমান সোহানের অবদান তাই বিশেষভাবে স্মরণীয়।


শুধু একজন নায়ককে পর্দায় তুলে ধরাই নয়, বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে রোমান্টিক সিনেমাকে আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রেও ছবিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


শাকিব খানের চলচ্চিত্রজীবনের সূচনাতেও তাঁর ভূমিকা
১৯৯৯ সালে সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় নির্মিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে শাকিব খানের। পরবর্তী সময়ে শাকিব খান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান সুপারস্টারে পরিণত হন।


একজন পরিচালকের সাফল্য শুধু নিজের নির্মিত ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তাঁর হাত ধরে নতুন শিল্পীদের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাওয়াও তাঁর কৃতিত্বের অংশ। সোহানুর রহমান সোহানের কর্মজীবনে এই অবদান তাঁকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

 

তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র
সোহানুর রহমান সোহানের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে—
। বিশ্বাস অবিশ্বাস (১৯৮৮)
কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯৩)
স্বজন (১৯৯৬)
অনন্ত ভালোবাসা (১৯৯৯)
আমার ঘর আমার বেহেশত
পরাণ যায় জ্বলিয়া রে

 

তাঁর চলচ্চিত্রে প্রেম, বিরহ, আবেগ ও পারিবারিক সম্পর্কের নানা দিক উঠে এসেছে। দর্শকদের অনুভূতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।


চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেতৃত্ব ও অবদান
পরিচালনার পাশাপাশি চলচ্চিত্রশিল্পের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ইউনিভার্সেল পারফর্মিং আর্টস ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হিসেবেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।

 

এসব দায়িত্বের মধ্য দিয়ে তিনি শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণেই নয়, চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশ ও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের পথচলাতেও ভূমিকা রেখেছেন।


শেষ বিদায়—এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়
২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন এই গুণী চলচ্চিত্র পরিচালক।


তাঁর জীবনের শেষ সময়টি ছিল অত্যন্ত বেদনাবিধুর। তাঁর মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগে, ১২ সেপ্টেম্বর, তাঁর স্ত্রী প্রিয়া রহমানও মৃত্যুবরণ করেন। পরপর দুই দিনের এই শোকাবহ ঘটনা পরিবার, সহকর্মী ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের গভীরভাবে মর্মাহত করে।

 

একই সময়ে জীবনের দুই প্রিয় মানুষের বিদায়ের এই হৃদয়বিদারক ঘটনা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতার স্মৃতি হয়ে রয়েছে।


সোহানুর রহমান সোহান—একটি নাম, একটি অধ্যায়, একটি উত্তরাধিকার
সময় চলে যায়, প্রজন্ম বদলে যায়, কিন্তু কিছু মানুষের কাজ তাঁদের বাঁচিয়ে রাখে ইতিহাসের পাতায় এবং মানুষের হৃদয়ে।

 

সোহানুর রহমান সোহান তেমনই একজন মানুষ। তাঁর নির্মিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ আজও বাংলা চলচ্চিত্রের রোমান্টিক ইতিহাসের এক স্মরণীয় নাম। সালমান শাহ ও শাকিব খানের চলচ্চিত্রজীবনের সূচনায় তাঁর অবদানও তাঁকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেবে নতুন প্রজন্মকে।
তিনি হয়তো আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি, তাঁর হাত ধরে এগিয়ে আসা তারকাদের সাফল্য এবং বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে চিরকাল।
বিনম্র শ্রদ্ধা, কিংবদন্তি পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান।


আপনার কর্মময় জীবন ও বাংলা চলচ্চিত্রে অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকুক। ওপারে ভালো থাকুন।

বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা