বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাংবাদিক ফাহিমের মামলায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।

সাংবাদিক ফাহিমের মামলায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।

সাংবাদিক ফাহিমের মামলায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।

চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে সাংবাদিক ফাহিম, অভিযোগ ও পাল্টা দাবিতে আলোচনায় আত্রাই।

নওগাঁর আত্রাইয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে করা মামলায় জামিন না পেয়ে কারাগারে গেছেন দৈনিক ইনকিলাবের আত্রাই উপজেলা প্রতিনিধি শিফাত মাহমুদ ফাহিম। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) নওগাঁর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক মো. নজরুল ইসলাম তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী আত্রাই উপজেলার ২ নম্বর ভোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মণ্ডল। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। গত ৩ জুন তিনি আদালতে মামলাটি করেন।

এদিকে, সাংবাদিক ফাহিমের বিরুদ্ধে করা মামলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চেয়ারম্যানের সঙ্গে ফাহিমের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মেরামতের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব এবং পরিষদের সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রায় দুই বছর আগে চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক ফাহিমের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন ফাহিম। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

গত ১ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকটি জানালা দুটি ভ্যানে করে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ভ্যান দুটি আটকে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে চেয়ারম্যানকে পরিষদ প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই ঘটনার ভিডিও সাংবাদিক ফাহিমসহ অন্য গণমাধ্যমকর্মীরা সরাসরি সম্প্রচার করেন বলে জানা গেছে।

সাংবাদিক ফাহিমের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের অনিয়মের তথ্য প্রকাশের কারণে তাঁকে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁর পরিবার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মামলায় ফাহিমের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মণ্ডলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে মামলার অভিযোগ এবং এর পেছনে সংবাদ প্রকাশের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশ। তাঁদের মতে, মামলার অভিযোগের যথাযথ তদন্তের পাশাপাশি সাংবাদিক ফাহিমের উত্থাপিত অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখা উচিত।