প্রবাল চৌধুরী বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় সংঙ্গীত শিল্পী। প্রবাল চৌধুরী ১৯৪৭ সালের ২৫ আগস্ট চট্টগ্রামের রাউজানের বিনাজুরিত গ্রামে দেওয়ানজি পুকুর পারে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মনমোহন চৌধুরী ও মাতা লীলাবতী চৌধুরী। মা লীলাবতী চৌধুরী ছিলেন তাঁর গানের প্রধান অনুপ্রেরণা। ছোটবেলায় নাচের জন্য খ্যাতি ছিল প্রবাল চৌধুরীর। বাড়ির পাশে কোনো অনুষ্ঠান হলে সেখানে নাচতেন তিনি। তার নাচের সঙ্গে গাইতেন বোন শেফালী ঘোষ। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে কদুক্ষী গার্লস স্কুলে প্রথম গান গেয়ে মানুষের মন জয় করেন সেই সুদর্শন যুবক।
তবে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাচ থেকে গানের দিকে ঝুঁকে পড়েন প্রবাল চৌধুরী। বোন শেফালী ঘোষের সঙ্গে কলিম শরাফীর কাছে গান শেখেন তিনি। কলিম শরাফীর পাশাপাশি মিহির নন্দী, নৃপেণকৃষ্ণ চৌধুরীর কাছেও গান শিখেন প্রবাল চৌধুরী। ১৯৬৬ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। চট্টগ্রাম বেতারে সঙ্গীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজের সুরে প্রথম গান করেন তিনি। পরবর্তীতে মোহনলাল দাস, সুজেয় শ্যাম, শেখ সাদী খানের সুর ও সঙ্গীতে গান করেন প্রবাল চৌধুরী।
প্রবাল চৌধুরীর ভাই বোনদের মধ্যে কল্যাণী ঘোষ, উমা খান, স্বপন চৌধুরী, দেবী চৌধুরী ও পূর্ণিমা দাশ। কল্যাণী ঘোষ এবং উমা খান সংগীতজগতে ব্যাপক পরিচিত।
পরে সংগ্রামী এই শিল্পী ১৯৭১ সালে যোগ দিয়েছিলেন স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শেফালী ঘোষের সঙ্গে গান করতেন তিনি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শিল্পী হিসেবে একক কণ্ঠে, দ্বৈত ও সমবেত কণ্ঠে প্রচুর গান পরিবেশন করেছেন তিনি।
ক্লাসিক্যাল সঙ্গীত আর ভরাট কণ্ঠের অধিকারী এই শিল্পীকে আশির দশকে সঙ্গীতবোদ্ধারা অভিহিত করেছিলেন বাংলাদেশের হেমন্ত মুখোপাধ্যায় হিসেবে।
লোকে যদি মন্দ কয় সেতো নহে পরাজয়’, ‘প্রেমের ওই মেলাতে’, ‘কোথায় যাবো বন্ধু বলো কোথায় আমার ঘর’, ‘চল ছুটে চল মোটর গাড়ি’, ‘ফুলের বাসর ভাঙল যখন’, ‘আমি ধন্য হয়েছি ওগো ধন্য’, ‘এই জীবন তো একদিন চলতে চলতে থেমে যাবে’, ‘আমি মানুষের মতো বাঁচতে চেয়েছি’-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন প্রবাল চৌধুরী।
২০১৫ সালের ১৬ অক্টোবর জীবনের মায়া ত্যাগ করে চিরতরে ওপারে পাড়ি জমান প্রবাল চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। ব্যক্তি প্রবাল চৌধুরীর প্রস্থান হয়েছে বটে। কিন্তু শিল্পী প্রবাল চৌধুরী বেঁচে আছেন গানে গানে, প্রাণে প্রাণে। তার অসাধারণ কণ্ঠসমৃদ্ধ গানগুলো যুগ থেকে যুগে ছড়িয়ে যাবে।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা