হাফিজুর রহমান
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় অর্ধশতাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও অসহায়-দুস্থ পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেছে রাজারহাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মোট ১২৯টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। এসব মন্দিরের মধ্যে অর্ধশতাধিক মন্দির পরিদর্শন করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিভিন্ন মন্দিরের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।
রাজারহাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আনিছুর রহমান লিটন বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই, প্রতিটি পরিবার আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করুক।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক সুশীল রায় ও সদস্যসচিব রতন কুমার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা,মোঃ মাহবুব আলম,মোঃ আলী আজগর লাল, সাংবাদিক আসাদুর রহমান শিমু, সাংবাদিক হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক গোলাম রব্বানীসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বস্ত্র পেয়ে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবের আগে এমন সহযোগিতা তাঁদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক সময় নতুন পোশাক কেনা সম্ভব হয় না। এমন সময়ে পাশে দাঁড়ানোয় তাঁরা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
স্থানীয়দের মতে, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ধর্মীয় উৎসবকে সর্বজনীন আনন্দে পরিণত করতে রাজারহাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এ উদ্যোগ মানবিকতা ও সম্প্রীতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।