তিনি ছিলেন মহারাষ্ট্রীয় রাজনীতিক শিবাজীরাও গিরিধর পাতিল এবং সমাজকর্মী বিদ্যাতাই পাতিল দম্পতির কন্যা। পুনের রেণুকা স্বরূপ মেমোরিয়াল হাই স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে ভারতের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (FTII) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
১৯৭০-এর দশকে দূরদর্শনে সংবাদ পাঠক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও, পরিচালক শ্যাম বেনেগাল তাঁকে ক্যামেরার পেছন থেকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর হাত ধরেই স্মিতার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ‘চরণদাস চোর’ (১৯৭৫) ছবিতে।
মাত্র এক দশকেরও কিছু বেশি সময়ে তিনি অভিনয় করেছেন ৮০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে — হিন্দি ও মারাঠি দুই ভাষাতেই। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে —
মন্থন, ভূমিকা, আক্রোশ, চক্র, চিদাম্বরম, মির্চ মশলা ইত্যাদি।
রাজনৈতিক ও সমাজমনস্ক চলচ্চিত্রে শাবানা আজমির সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দি ভারতীয় সমান্তরাল সিনেমার এক নতুন অধ্যায় রচনা করে। তিনি একদিকে যেমন কাজ করেছেন শ্যাম বেনেগাল, গোবিন্দ নিহালানি, সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন-এর মতো মহান পরিচালকদের সঙ্গে, তেমনি অন্যদিকে বাণিজ্যিক হিন্দি চলচ্চিত্রেও নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন।
স্মিতা ছিলেন এক সক্রিয় নারীবাদী ও সমাজকর্মী। মুম্বইভিত্তিক ‘ওম্যানস সেন্টার’-এর সদস্য হিসেবে নারী অধিকার, সমতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন নির্ভীক কণ্ঠে। তাঁর চলচ্চিত্রেও নারীজীবনের সংগ্রাম, বঞ্চনা ও আত্মমর্যাদার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
ব্যক্তিজীবনে অভিনেতা রাজ বাব্বর-এর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তিনি বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁদের বিবাহ হয়। কিন্তু পুত্র প্রতীক বাব্বর জন্মের মাত্র দুই সপ্তাহ পর, মাত্র ৩১ বছর বয়সে, প্রসবজনিত জটিলতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর মৃত্যুর পরও মুক্তি পেয়েছিল বহু চলচ্চিত্র, এবং দর্শক-সমালোচক উভয়েই তাঁর অভিনয়ের গভীরতা ও আবেগকে আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
সম্মাননা ও স্বীকৃতি:
১৯৮০: চক্র চলচ্চিত্রে অসামান্য অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার
১৯৮৫: ভারত সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী
১৯৮৪: মন্ট্রিল বিশ্ব চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারক মণ্ডলীর সদস্য
২০১১: রেডিফ.কম তাঁকে “সর্বকালের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ভারতীয় অভিনেত্রী” হিসেবে স্বীকৃতি দেয় (নার্গিসের পর)
২০১৩: ভারতীয় ডাক বিভাগ তাঁর মুখাবয়ব নিয়ে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে
‘মির্চ মশলা’ ছবিতে তাঁর নারী চরিত্রের দৃঢ়তা আজও ভারতীয় সিনেমায় প্রতীক হয়ে আছে।
তাঁর জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু প্রভাব ছিল গভীর—অভিনয়, সমাজচেতনা ও নারীর মর্যাদার প্রতীক হিসেবে স্মিতা পাতিল আজও অমর।
শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি মহান অভিনেত্রী স্মিতা পাতিলকে।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা