বাংলা চলচ্চিত্রের এক বিশেষ মুখ, প্রখ্যাত অভিনেতা সৈয়দ আখতার আলী— যাঁর অভিনয়প্রতিভা ও নীরব শক্ত উপস্থিতি এদেশের সিনেমার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জন্ম: ১৭ অক্টোবর ১৯৪১, আসাম রাজ্যের ধুবড়িতে।
পরলোকগমন: ২২ জুলাই ২০১৩, নিজ বাসভবন টঙ্গী বোর্ড বাজারে।
তাঁকে সমাহিত করা হয় রাজধানীর আজিমপুর গোরস্থানে।
পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন চার পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রজীবনে তাঁর সহপাঠী ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী মনিরুল ইসলাম ও মহিউদ্দিন ফারুক। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি এক মডেলকে বিবাহ করেন— যিনি তাঁর জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিলেন।
১৯৬৫ সালে বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামনিস্ট ও অভিনেতা সাদেক খান নির্মিত ‘নদী ও নারী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সৈয়দ আখতার আলীর অভিনয়জীবনের সূচনা ঘটে।
এরপর তিনি একে একে অসংখ্য জনপ্রিয় ও শিল্পমানসম্পন্ন ছবিতে অভিনয় করেন, যার মধ্যে
উল্লেখযোগ্য —
সেতু, সূর্যদীঘল বাড়ি, সারেং বৌ, কি যে করি, সুরুজ মিয়া, এখনই সময়, বংশধর, শ্যামলছায়া
তাঁর প্রতিটি চরিত্রে ছিল গভীরতা, বাস্তবতা ও সংলাপের সূক্ষ্মতা— যা তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছিল।
পরিচালনাতেও হাত দেন সৈয়দ আখতার আলী; ‘নাবালক’ নামে একটি চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি, যদিও দুর্ভাগ্যবশত ছবিটি অসমাপ্ত থেকে যায়।
সৈয়দ আখতার আলী ছিলেন এমন এক শিল্পী, যিনি বাণিজ্যিক ও শিল্পধর্মী— দুই ধারার সিনেমাতেই সমান দক্ষতা ও মর্যাদার সঙ্গে অভিনয় করেছেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য, এবং তাঁর কর্ম ও স্মৃতি আগামী প্রজন্মের অভিনেতাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি মহান এই শিল্পীকে —
অভিনেতা সৈয়দ আখতার আলী (১৯৪১–২০১৩)
তাঁর আত্মা চিরশান্তিতে থাকুক।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা