তিনি ছিলেন এমন এক অসামান্য অভিনেতা, যিনি মূলধারার হিন্দি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বাংলা, কন্নড়, ইংরেজি, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, তেলেগু ও মারাঠি ভাষার চলচ্চিত্রে অনন্য অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি স্বাধীনধারার ও শিল্পমূলক সিনেমা থেকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র—সবখানেই রেখে গেছেন অবিস্মরণীয় ছাপ।
হরিয়ানার এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন ওম পুরি। শৈশব ছিল দারিদ্র্য ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ছোটবেলায় রেলওয়ে কর্মী পিতার জেলে যাওয়ার পর তাঁদের পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। শিশুটি তখন স্থানীয় চায়ের দোকানে কাজ করে, রেললাইন থেকে কয়লা কুড়িয়ে সংসার চালাতে সাহায্য করত। কিন্তু স্বপ্নের আলো নিভে যায়নি—সেই ছেলেটিই একদিন বিশ্ব চলচ্চিত্রে নিজের নাম খোদাই করে রাখেন!
দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (NSD) থেকে নাট্যাভিনয়ে প্রশিক্ষণ নেন, এরপর পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (FTII)-তে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। দারিদ্র্য সত্ত্বেও নিজের মেধা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জোরে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় বাস্তবধর্মী চলচ্চিত্র আন্দোলনের মুখ্য অভিনেতা।
তিনি দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা অভিনেতা), দু’বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।
১৯৯০ সালে পান ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’,
এবং ২০০৪ সালে সম্মানিত হন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ‘অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (OBE)’ উপাধিতে।
তাঁর অভিনীত বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে
আক্রোশ (১৯৮০), আরোহন (১৯৮২), অর্ধসত্য (১৯৮৩), টেলিভিশন চলচ্চিত্র সদগতি (১৯৮১) ও তমস (১৯৮৭)।
এছাড়া হালকা মেজাজের চরিত্রে জানে ভি দো ইয়ারো (১৯৮৩) ও ছাঁচি ৪২০ (১৯৯৭)-এও সমানভাবে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও তিনি ছিলেন উজ্জ্বল—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের চলচ্চিত্রেও সমান দক্ষতায় কাজ করেছেন।
বিশ্বজোড়া প্রশংসা পান মাই সন দ্য ফ্যানাটিক (১৯৯৭) এবং ইস্ট ইজ ইস্ট (১৯৯৯) ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য, যার জন্য তিনি BAFTA Awards-এ সেরা অভিনেতা বিভাগে মনোনীত হন।
৬ জানুয়ারি ২০১৭-তে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রয়াত হন। মৃত্যুর পরও তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে ৮৯তম একাডেমি পুরস্কারে তাঁকে স্মারক সম্মানে ভূষিত করা হয়।
আজ তাঁর জন্মদিনে স্মরণ করি এক অনন্য প্রতিভাবান শিল্পীকে যিনি দেখিয়েছেন, জীবনের গভীরতম অন্ধকারও একদিন আলোয় ভরে উঠতে পারে।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা