ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের নির্দেশনায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাজার, সড়কের মোড় ও জনসমাগমস্থলে সাধারণ মানুষের হাতে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক লিফলেট ও মশার কয়েল তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা যুবদল নেতা আজিজুল ইসলাম নান্নুর নেতৃত্বে তাঁর টিমের সদস্যরা এ কর্মসূচি পরিচালনা করেন। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল। এ সময় তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার বাবুরচর, পিয়াজখালী, ঢেউখালী, সদরপুর সদর ইউনিয়ন, কৃষ্ণপুর, চরচাঁদপুর ও আমিরাবাদ চৌরাস্তা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও মোড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ১ হাজার প্যাকেট মশার কয়েল এবং ২ হাজার ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সদস্যরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে তাঁদের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়।
বিতরণ করা লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কোথাও দীর্ঘ সময় পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ জন্য বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ড্রেন ও আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করা গেলে মশার বংশবিস্তার কমানো সম্ভব। এমন সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি প্রতিরোধবিষয়ক বার্তা পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কর্মসূচির আয়োজকেরা।
কর্মসূচি শেষে উপজেলা যুবদল নেতা আজিজুল ইসলাম নান্নু বলেন, “ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল ভাইয়ের নির্দেশনায় আমরা আজ এ কর্মসূচি পালন করেছি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করেছি। মানুষের হাতে হাতে সচেতনতামূলক লিফলেট ও মশার কয়েল বিতরণ করেছি। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে প্রচার চালিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমরা চাই, সাধারণ মানুষ ডেঙ্গুর বিষয়ে সচেতন হোক এবং নিজেদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের সুরক্ষায় এগিয়ে আসুক। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের এ কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।”
আয়োজকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করার মাধ্যমে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সম্মিলিত উদ্যোগও প্রয়োজন।
