রবিবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর।
২০১৬ সালে কানাডিয়ান পপ তারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জনে একাধিকবার খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন সাহারা। এ মডেলের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম টিএমজেড-কে বলেন, “গত রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সাহারা। এসময় আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। সাহারা আমাদের অত্যন্ত প্রিয় ছিল।”
সাহারার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ডেইলি মেইল-কে জানান, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে ৩৪ বছর বয়সি সাহারা রে প্রাণঘাতী ওপিয়ড অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
পরে দ্রুত তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তবে শেষ পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে লাইফ সাপোর্ট থেকে সরিয়ে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। গত রবিবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
সাহারার মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অতিরিক্ত মাত্রায় ওপিয়ড গ্রহণের ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছিল, না কি ইচ্ছাকৃতভাবে—তাও জানা যায়নি বলে এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাহারার মা গ্রেচেন বাখ ডেইলি মেইল-কে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, “সাহারা ছিলেন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ, প্রাণবন্ত ও দয়ালু একজন তরুণী। পরিবার, ফ্যাশন, মেয়ে স্নো এবং সার্ফিংকে খুব ভালোবাসত সাহারা।”
বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষীদের কথা স্মরণ করে বিবৃতিতে গ্রেচেন বাখ বলেন, “সাহারার প্রিয় বন্ধু, অনুরাগী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে সমস্ত সম্প্রদায়ের সঙ্গে সে যুক্ত ছিল, সেখান থেকে যে ভালোবাসা ও সমবেদনা আসছে, আমরা তা অনুভব করছি।”
মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে অর্থাৎ, গত জানুয়ারিতে সাহারা জন্ম দেন একটি কন্যাসন্তান। তার নাম রাখেন—স্নো রে ডাউ। গত এপ্রিলে একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে নবজাতক মেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন সাহারা।
২০২৪ সালের এপ্রিলে সাহারা জানান, গাড়ির ধাক্কায় আহত হওয়ার পর গুলেন-ব্যারি সিনড্রোম নামে একটি অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হন। এই রোগের কারণে আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং কিছু সময়ের জন্য তাকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হয়েছিল।
সড়ক দুর্ঘটনার পরপরই টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সাহারা নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, “এই মুহূর্তে আমার উরুর ওপরের অংশ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পক্ষাঘাতগ্রস্ত। আমি একেবারেই হাঁটতে পারছি না।”
মায়ু ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, গুলেন-ব্যারি সিনড্রোম এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা স্নায়ুর ওপর আক্রমণ চালায়। ফলে শরীরিক দুর্বলতা, অসাড়তা কিংবা পক্ষাঘাত দেখা দিতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনার মতো আকস্মিক শারীরিক আঘাতের পরও এই রোগের সূত্রপাত হতে পারে।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা