বাংলা চলচ্চিত্রের সুবর্ণযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী, জীবন্ত কিংবদন্তি মোঃ খুরশীদ আলম—যিনি তাঁর কণ্ঠে একের পর এক অমর সুরের জন্ম দিয়েছেন, আজ উদযাপন করছেন তাঁর ৮১তম জন্মদিন।
১৯৪৪ সালের ২২ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের সীমান্তঘেঁষা ছোট্ট জেলা শহর জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় তাঁর জন্ম। পিতা এ এফ তসলিমদ্দিন আহমেদ, মাতা মেহেরুননেছা। মাত্র তিন বছর বয়সে ঢাকায় চলে আসেন পরিবারসহ। এখানেই বেড়ে ওঠা, এখানেই তাঁর শিল্পীজীবনের বীজ বপন।
শৈশবে প্রথম গান শেখেন চাচা ডা. আবু হায়দার সাজেদুর রহমানের কাছে। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে কলেজ অব মিউজিক থেকে সঙ্গীতে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং একই বছর থেকেই বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত গান গাওয়া শুরু করেন।
১৯৬৯ সালে পরিচালক বাবুল চৌধুরীর “আগন্তক” সিনেমায় প্রথম নেপথ্য কণ্ঠ দেন—নায়করাজ রাজ্জাকের ঠোঁটে ফুটে ওঠা সেই কালজয়ী গান “বন্দি পাখির মতো মনটা কেঁদে মরে, ও পাহাড় ও নদী বলে দাও নিরবধি” তাঁকে এক রাতেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়।
এরপর থেকে একে একে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য অমর গান—বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগ যেন তাঁর সুরে মিশে আছে।
তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন চার শতাধিক চলচ্চিত্রে পাঁচ শতাধিক গানে।
ষাটের দশক থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর গানের জাদু শ্রোতাদের মুগ্ধ করে আসছে নিরবচ্ছিন্নভাবে।
পুরস্কার ও সম্মাননা:
একুশে পদক (২০১৮)
চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস আজীবন সম্মাননা
ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক
টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্রাব) পুরস্কার
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী রীনা আলম ও দুই কন্যা মেহরিন আলম ও মেহনাজ আলমকে নিয়ে সুখী পরিবারে বাস করছেন। গানের বাইরে ক্রিকেট দেখা ও গান শোনা তাঁর নেশা।
বাংলা গানের ভুবনে মোঃ খুরশীদ আলম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র—যার আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে, ছড়িয়ে পড়বে চিরকাল।
শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি!
আপনার কণ্ঠে বেঁচে থাকুক বাংলা গানের মাধুর্য, সুরের ঐতিহ্য।
অশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এই মহান শিল্পীর প্রতি।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা