বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা খুরশিদ আলম খান

শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা খুরশিদ আলম খান

শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা খুরশিদ আলম খান

 

বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীত জগতে যাঁর নাম উচ্চারণেই ভেসে আসে এক নস্টালজিক সুর—
তিনি খুরশিদ আলম খান, জনপ্রিয় নাম আলম খান। বাংলা গানের ইতিহাসে এক কালজয়ী সুরের জাদুকর।
“ওরে নীল দরিয়া…”
“হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস…”
“আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো গন্ধ বিলিয়ে দিতে চাই…”
এমন অসংখ্য অমর গানের স্রষ্টা তিনি।


সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে তাঁর অবদান বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংগীত ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে চিরকাল।
১৯৪৪ সালের ২২ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ জেলার বানিয়াগাতি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আলম খান। পিতা আফতাব উদ্দিন খান, ছিলেন হোম ডিপার্টমেন্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মাতা জোবেদা খানম, নবাব সিরাজউদ্দৌলার দরবারের এক শিল্পীর বংশধর। শৈশব কাটে সিরাজগঞ্জ ও কলকাতায়; দেশভাগের পর পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে চলে আসেন ঢাকায়।
শিক্ষা লাভ করেন সিদ্ধেশ্বরী স্কুলে, সেখান থেকেই মেট্রিক পাস করেন।

 

ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগ জন্ম নেয়। বাবার প্রথমদিকে অনাগ্রহ থাকলেও, মায়ের উৎসাহে গান শেখা শুরু করেন। পরে বাবা-ই তাঁকে ওস্তাদ ননী চ্যাটার্জীর কাছে তালিমের ব্যবস্থা করে দেন।


পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে আলম খান মেজো;
বাংলাদেশের কিংবদন্তি পপ শিল্পী আজম খান ছিলেন তাঁর ছোট ভাই।

১৯৬৩ সালে রবিন ঘোষের সহকারী হিসেবে তালাশ চলচ্চিত্রে কাজের মাধ্যমে তাঁর সংগীত পরিচালনার পথচলা শুরু হয়।

১৯৭০ সালে এককভাবে সংগীত পরিচালনা করেন আব্দুল জব্বার খানের “কাচ কাটা হীরে” চলচ্চিত্রে।
এরপর ১৯৭৭ সালে আবদুল্লাহ আল মামুনের “সারেং বৌ” চলচ্চিত্রে তাঁর সুর করা গান “ওরে নীল দরিয়া” সাড়া ফেলে সারা দেশে।


এরপর একে একে উপহার দিয়েছেন—

“হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস” (বড় ভালো লোক ছিল),
“আমি রজনীগন্ধা ফুলের মত” (রজনীগন্ধা),
“তুমি যেখানে আমি সেখানে” (নাগ পূর্ণিমা),
“জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প” (ভেজা চোখ)
ইত্যাদি অসংখ্য কালজয়ী গান।
তাঁর সুরে প্রথমবারের মতো প্লেব্যাক করেন কলকাতার গায়ক কুমার শানু, তিন কন্যা এক ছবি চলচ্চিত্রে।


তাঁর সুরে গান গেয়ে বিখ্যাত হয়েছেন—
এন্ড্রু কিশোর, সাবিনা ইয়াসমিন, আব্দুল জব্বার, রুনা লায়লা, কুমার শানু, বুলবুল মাহমুদসহ অসংখ্য কণ্ঠশিল্পী।
তিন শ’রও বেশি চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি।
সুরারোপ করেছেন প্রায় দুই হাজারেরও বেশি গানের।


নিজের লেখা গানও বহু জনপ্রিয় হয়েছে।
তবু গীতিকার ও সুরকার হিসেবে থেকেছেন সবার দৃষ্টির আড়ালে — নিঃশব্দ কিন্তু গভীর আলোয় ভরা এক সৃষ্টিশীল সাধক।
সম্মাননা ও পুরস্কার
চলচ্চিত্র সংগীতে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন সাতবার,
‘শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক’ ও ‘সুরকার’ বিভাগে।
১৯৭৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন হাবিবুননেসা গুলবানু-এর সঙ্গে, যিনি নিজেও একজন গীতিকার।


গুলবানুর লেখা ও তাঁর সুরে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে “তুমি তো এখন আমারই কথা ভাবছো” গানটি আজও জনপ্রিয়।
তাঁদের দুই পুত্র আরমান খান ও আদনান খান—দুজনেই সঙ্গীত পরিচালক, এবং একমাত্র কন্যা আনিকা খান।


২০১১ সালে তিনি ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২০২২ সালের ৮ জুলাই ৭৮ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।
তাঁর প্রস্থান বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করে,
কিন্তু তাঁর সুর আজও বাজে আমাদের হৃদয়ের অন্তঃস্থলে।


তিনি ছিলেন—
বাংলা গানের ইতিহাসে এক অনন্য সুরশিল্পী, যিনি শব্দে ও সুরে নির্মাণ করেছেন আমাদের আবেগ, স্মৃতি ও সময়ের সঙ্গীত।
শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রিয় সুরস্রষ্টা খুরশিদ আলম খান (আলম খান)-কে 
তাঁর সৃষ্টি চিরকাল জাগরুক থাকবে বাংলার সুরে, বাংলার প্রাণে।

 

 


বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা