মুহাম্মদ সুজন মোল্লা
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। এসব দাবি বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হলে তৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ শহরের খালপাড় এলাকার শহীদ রফিক চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ দায়িত্ব সরকারের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাবের অভিযোগ করেন, মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ একাধিকবার চিঠি দিলেও ভারত জবাব দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে কথা না বলার জন্য ফোন করেছিলেন বলেও দাবি করেন জাবের। তবে এসব দাবির পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
জাবের জানান, ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে জনমত গড়ে তুলতে উত্তরাঞ্চলের নয়টি জেলার ৭৩টি উপজেলায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনের আগে বিচার দাবিতে আন্দোলনকে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার আট মাস পরও বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় সরকারের কাছে জবাব চান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে জাবের বলেন, জুলাইয়ের প্রসঙ্গ তুললে সরকারের কিছু ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান যেন ভুল ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক কারণে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কিংবা নির্দিষ্ট দলকে ভোট দেওয়ার কারণে হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপির উদ্দেশে জাবের বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর দলটির উচিত জুলাইয়ের অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং গণহত্যার বিচার করা। এসব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে বিএনপিকে ভবিষ্যতে আরও কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জাবের বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং ভোট দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ সময় বিএনপিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ২০১৩ সালের শাহবাগকেন্দ্রিক ঘটনাবলি ও পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়েও বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। এসব ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতা ও মদদ ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন।
জাবের বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সরকারের বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।