বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বেলকুচিতে ১৭ বছরেও হয়নি রাস্তা, বাঁশের সাঁকোতেই মিলল স্বস্তি

বেলকুচিতে ১৭ বছরেও হয়নি রাস্তা, বাঁশের সাঁকোতেই মিলল স্বস্তি

বেলকুচিতে ১৭ বছরেও হয়নি রাস্তা, বাঁশের সাঁকোতেই মিলল স্বস্তি

আল-আমিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি


সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকার চালা উত্তরপাড়া পতেঙ্গা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন মুকুন্দগাঁতী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বেলকুচি পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ আলী ভূইয়া। প্রায় ১৭ বছর ধরে রাস্তাটি নির্মাণ না হওয়ায় ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তাঁর এ উদ্যোগে। এ ছাড়া দেলুয়া, বোল্ডার বাজার ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজ উদ্যোগে মোট ৬ থেকে ৭টি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে এলাকার রাস্তাটি নির্মাণ না হওয়ায় তাঁদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকা, চলাচলের অনুপযোগী রাস্তা এবং জমে থাকা পচা পানির কারণে প্রতিদিনই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। চরাঞ্চলের মানুষের নদী পারাপার ও দৈনন্দিন কাজে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় তাঁদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। বিভিন্ন সময়ে অনেকে এলাকা পরিদর্শন করে রাস্তা নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। কেউ কেউ চলাচলের সুবিধার্থে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হয়েছে কয়েকশ পরিবারকে।
এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এগিয়ে আসেন হাজী মোহাম্মদ আলী ভূইয়া। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে চালা উত্তরপাড়া পতেঙ্গা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাঁকুটি দিয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ পরিবারের মানুষ চলাচল করেন। তাঁদের দৈনন্দিন কাজকর্ম, বাজারে যাতায়াতসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে পথটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হাজী মোহাম্মদ আলী ভূইয়া বলেন, “দেলুয়া, বোল্ডার বাজার ও পতেঙ্গাসহ মোট ৬ থেকে ৭টি স্থানে নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছি। আমার উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ মানুষ যেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারেন এবং ভোগান্তির শিকার না হন। মানুষের চলাচলের কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে আমি সামর্থ্য অনুযায়ী এ উদ্যোগ নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, এলাকার সাধারণ মানুষ যেন সহজে চলাচল করতে পারেন এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের যাতায়াতের সমস্যা কমে আসে, সে বিষয়টি বিবেচনা করেই এসব সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের ফলে চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলে সুবিধা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগে জমে থাকা পচা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হতো তাঁদের। এখন সাঁকো ব্যবহার করে তুলনামূলক সহজে যাতায়াত করতে পারছেন। পাশাপাশি নদী পারাপার ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেও আগের তুলনায় সুবিধা হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।
হাজী মোহাম্মদ আলী ভূইয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বেলকুচি পৌরসভার প্রথম প্রশাসক হাজী জামাল উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি মুকুন্দগাঁতী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বেলকুচি পৌরসভার মেয়র প্রার্থী।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, বাঁশের সাঁকো নির্মাণ সাময়িকভাবে চলাচলের সুবিধা দিলেও দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন রাস্তা নির্মাণ ও কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা। তাঁদের দাবি, প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে চালা উত্তরপাড়া, পতেঙ্গা মসজিদসংলগ্ন এলাকাসহ চরাঞ্চলের শত শত পরিবারের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।