ভারতীয় চলচ্চিত্রের গর্ব, কোটি ভক্তের হৃদয়ের মহাতারকা—প্রভাসকে জানাই জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।
উপ্পালাপতি ভেঙ্কটা সূর্যনারায়ণ প্রভাস রাজু (প্রভাস)
জন্ম: ২৩ অক্টোবর ১৯৭৯
জন্মস্থান: মোগালথুর, পশ্চিম গোদাবরী জেলা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ভারত
পরিচিতি: রেবেল স্টার, প্যান-ইন্ডিয়া সুপারস্টার
চলচ্চিত্র জগৎ: প্রধানত তেলুগু চলচ্চিত্র।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যেসব তারকা নিজেদের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও অসাধারণ পর্দা-উপস্থিতির মাধ্যমে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন, প্রভাস তাঁদের মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণী চলচ্চিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি আজ ভারতীয় সিনেমার আন্তর্জাতিক পরিচিত মুখ। বিশেষ করে বাহুবলী সিরিজের অভাবনীয় সাফল্য তাঁকে এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া পরিচিতি ও বিপুল জনপ্রিয়তা।
তাঁর পুরো নাম উপ্পালাপতি ভেঙ্কটা সূর্যনারায়ণ প্রভাস রাজু। ১৯৭৯ সালের ২৩ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের মোগালথুরে এক তেলুগু চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা উপ্পালাপতি সূর্যনারায়ণ রাজু ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং মা শিবা কুমারী। দুই ভাইবোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা প্রভাস পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান।
ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের জগতের সঙ্গে পারিবারিক যোগাযোগ থাকলেও নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে তাঁকে নিরলস পরিশ্রম করতে হয়েছে। ধীরে ধীরে অভিনয়দক্ষতা, শারীরিক প্রস্তুতি, চরিত্রের প্রতি নিষ্ঠা ও পর্দায় স্বতন্ত্র উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের আলাদা অবস্থান।
অভিনয়জীবনের সূচনা ও জনপ্রিয়তার উত্থান--
২০০২ সালে ঈশ্বর (Eeswar) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রভাসের বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। এরপর ২০০৪ সালের বর্ষম (Varsham) তাঁকে দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করে তোলে। অ্যাকশন, রোমান্স ও আবেগঘন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ক্রমশ নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে থাকেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ছত্রপতি (Chatrapathi, ২০০৫)
বিল্লা (Billa, ২০০৯)
ডার্লিং (Darling, ২০১০)
মিস্টার পারফেক্ট (Mr. Perfect, ২০১১)
মির্চি (Mirchi, ২০১৩)
২০১৩ সালের মির্চি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে নন্দী পুরস্কার অর্জন করেন। এই সাফল্য তাঁর অভিনয়জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করে।
বাহুবলী—যে চলচ্চিত্র বদলে দিয়েছিল প্রভাসের ক্যারিয়ার
২০১৫ সালে মুক্তি পায় এস. এস. রাজামৌলি পরিচালিত বাহুবলী: দ্য বিগিনিং। এই ছবিতে অমরেন্দ্র বাহুবলী ও মহেন্দ্র বাহুবলীর চরিত্রে প্রভাসের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। চরিত্রের জন্য তাঁর দীর্ঘ প্রস্তুতি, শারীরিক রূপান্তর এবং অ্যাকশন দৃশ্যে অসাধারণ উপস্থিতি ছবিটিকে স্মরণীয় করে তোলে।
এরপর ২০১৭ সালে মুক্তি পায় বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন। ছবিটি বক্স অফিসে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করে এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে পরিচিত করে। এই দুই ছবির সুবাদে প্রভাস হয়ে ওঠেন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় প্যান-ইন্ডিয়া তারকা।
বাহুবলী শুধু একটি চলচ্চিত্র সিরিজ নয়; এটি প্রভাসের ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায়, যা ভাষা ও অঞ্চলের সীমা অতিক্রম করে তাঁকে অসংখ্য নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়।
বাহুবলীর পরেও থেমে থাকেননি প্রভাস
বাহুবলীর সাফল্যের পর প্রভাস একের পর এক বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলো হলো—
সাহো (Saaho, ২০১৯)
রাধে শ্যাম (Radhe Shyam, ২০২২)
আদিপুরুষ (Adipurush, ২০২৩)
সালার: পার্ট ১—সিজফায়ার (Salaar: Part 1 – Ceasefire, ২০২৩)
কাল্কি ২৮৯৮ এ.ডি. (Kalki 2898 AD, ২০২৪)
বিশেষ করে সালার ও কাল্কি ২৮৯৮ এ.ডি. তাঁর অ্যাকশন ও সায়েন্স ফিকশনধর্মী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তাকে আরও বিস্তৃত করেছে। কাল্কি ২৮৯৮ এ.ডি.-তে ভৈরব চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
২০২৫ সালে কান্নাপ্পা চলচ্চিত্রে রুদ্র চরিত্রে বিশেষ উপস্থিতির পাশাপাশি বাহুবলী: দ্য এপিক নামের পুনর্গঠিত সংস্করণেও দর্শকেরা তাঁকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ পান। ২০২৬ সালে মুক্তি পেয়েছে তাঁর চলচ্চিত্র দ্য রাজা সাব
প্রভাসের অর্জন ও বিশেষ পরিচিতি
২০১৫ সাল থেকে ফোর্বস ইন্ডিয়ার সেলিব্রিটি ১০০ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
মির্চি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য নন্দী পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান অর্জন করেছেন।
বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন বিশ্বব্যাপী ₹১,০০০ কোটির বেশি আয় করে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করে।
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম অভিনেতা হিসেবে তাঁর মোমের মূর্তি স্থাপিত হয়েছে ম্যাডাম তুসো জাদুঘরের ব্যাংকক শাখায়।
বাহুবলী সিরিজের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় শারীরিক প্রশিক্ষণ, অ্যাকশন প্রস্তুতি ও চরিত্র নির্মাণে ব্যয় করেছিলেন। এই নিষ্ঠা তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিক।
কেন প্রভাস এত জনপ্রিয়?
প্রভাসের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে তাঁর পর্দায় শক্তিশালী উপস্থিতি, অ্যাকশন দৃশ্যে দক্ষতা, চরিত্রের জন্য শারীরিক রূপান্তর এবং বিভিন্ন ভাষার দর্শকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতা। তাঁর ভক্তদের কাছে তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন—তিনি আবেগ, ভালোবাসা ও স্বপ্নের নাম।
তেলুগু চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে সর্বভারতীয় সিনেমার বিশাল মঞ্চে তাঁর উত্থান প্রমাণ করে, প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে একজন শিল্পী কত দূর এগিয়ে যেতে পারেন।
জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা, প্রিয় রেবেল স্টার প্রভাস। জীবনের ৪৭তম বছরে পদার্পণের এই বিশেষ দিনে কামনা করি, আপনার জীবন ভরে উঠুক সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সাফল্যে। আপনার অভিনয়জীবন আরও সমৃদ্ধ হোক, আগামী দিনের চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের মনে নতুন আনন্দ ও বিস্ময়ের জন্ম দিক।
আপনার হাত ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র আরও অনেক আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন করুক—এই প্রত্যাশাই রইল।।