আশি ও নব্বই দশকে কলকাতা দূরদর্শনের পর্দায় যাঁর লাবণ্যে মোড়া মুখশ্রী দর্শক হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে আছে, তিনি লাবনী সরকার।
‘বিষবৃক্ষ’, ‘মোহিনী’, ‘সোনার হরিণ’— এমন বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর অনবদ্য অভিনয় বাঙালি দর্শক আজও ভুলতে পারেনি।
১৯৬২ সালের ২৫ অক্টোবর কলকাতায় জন্ম লাবনীর। তাঁদের পূর্বপুরুষের আদি নিবাস ছিল বাংলাদেশের বিক্রমপুরে।
পিতা মুকুল কান্তি সরকার এবং মাতা কৃষ্ণা সরকার। শিক্ষাজীবনে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শুরুতে নৃত্যশিল্পী হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও ভাগ্যের পরিহাসে তিনি হয়ে ওঠেন একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
১৯৯২ সালে অমল রায় ঘটক পরিচালিত ‘নবরূপা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয়জগতে আত্মপ্রকাশ করেন লাবনী।
এরপর একের পর এক সফল চরিত্রে অভিনয় করে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন তিনি।
অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ:
নবরূপা, হুইলচেয়ার, কিছু সংলাপ কিছু প্রলাপ, শুভদৃষ্টি, কালপুরুষ, চাঁদের বাড়ি, মহাকাল, আমি সুভাষ বলছি, চুপিচুপি, অভিশপ্ত নাইটি প্রভৃতি।
টেলিভিশন ছাড়াও তিনি তেলেগু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজস্ব গ্রুপ থিয়েটার — ‘অন্দরমহল’।
তিনবার চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার (বিএফজেএ) এবং কলাকার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি তাঁর অসামান্য অভিনয় দক্ষতার জন্য।
বাস্তবে নিজের সন্তান না থাকলেও তিনি পর্দায় মাতৃত্বের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন অসংখ্যবার — ভালোবাসা ও মমতার অভিনয়ে যা ছুঁয়ে গেছে দর্শকের হৃদয়।
ব্যক্তিজীবনে অভিনেতা কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্বামী। আজকের এই বিশেষ দিনে রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা —
জীবনের প্রতিটি দিন হোক আলো, সাফল্য ও সৃষ্টির আনন্দে ভরপুর।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা