আশিকুর রহমান শ্রাবন নিজস্ব প্রতিনিধি
পৌরসভা: "রাজনীতি মানেই কেবল ক্ষমতার সমীকরণ নয়, রাজনীতি হলো মানুষের সেবা, ভালোবাসা এবং আস্থার এক গভীর বন্ধন।" এই কথারই বাস্তব রূপায়ণ ঘটিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ময়মনসিংহের ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এবং ধানের শীষের মনোনীত (সাবেক) প্রার্থী আলহাজ্ব হাতেম খান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিজেকে কেবল পদ-পদবি বা দলীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং পৌরসভার প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন।
যুগ যুগ ধরে মানবিক সহায়তা
পৌর এলাকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লড়াই ও উৎসব-পার্বণে হাতেম খান এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ঈদ, পূজা কিংবা যেকোনো জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবে পৌরবাসীর ঘরে ঘরে নিজস্ব অর্থায়নে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া তাঁর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। কোনো লোকদেখানোর জন্য নয়, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি যুগ যুগ ধরে নীরব সাধকের মতো এই সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা সংকটকাল—সবার আগে দুর্গত মানুষের দ্বারে পৌঁছান এই পরোপকারী নেতা।
আসন্ন নির্বাচন ও জনসংযোগ
আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌর এলাকায় বইছে ভোটের হাওয়া। বসে নেই আলহাজ্ব হাতেম খানও। দিন থেকে রাত অবধি তিনি চষে বেড়াচ্ছেন পৌরসভার প্রতিটি পাড়া, মহল্লা ও অলিগলি। সরাসরি কথা বলছেন সাধারণ মানুষের সাথে, নিচ্ছেন তাদের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলোর খোঁজ।
অতীতের সংগ্রাম ও আগামী নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য
নিজের রাজনৈতিক লড়াই ও দলের প্রতি আস্থার কথা তুলে ধরে সম্প্রতি এক জনসংযোগে আলহাজ্ব হাতেম খান বলেন: আমি দীর্ঘ দিন যাবৎ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র পৌর শাখার দায়িত্ব পালন করে আসছি। আন্দোলনের রাজপথে যেমন আপসহীন ছিলাম, তেমনি দলের নীতি-আদর্শকে সবসময় ধারণ করেছি। এর আগের নির্বাচনেও দল আমার ত্যাগ ও জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়েছিল এবং জনগণ আমাকে জয়ী করেছিল। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিস্ট ও রাতের ভোটের সরকার জনগণের সেই বিজয় জালিয়াতির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেয়।"
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "পৌরবাসী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানেন কারা বিপদে-আপদে পাশে থাকে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও পৌরবাসীর ভালোবাসার কথা মূল্যায়ন করে বিএনপি হাইকমান্ড আগামী নির্বাচনেও আমাকে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী করবে।"
নতুন ভিশন ও অঙ্গীকার
নির্বাচিত হলে পৌরসভাকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান:
*মানবিক সেবাকে সম্পূর্ণ দালাল ও হয়রানিমুক্ত করে ডিজিটালাইজড করা হবে।
* ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে জলাবদ্ধতা দূর করা হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা আনা হবে।
* রাস্তাঘাট ও স্ট্রিট লাইটের আধুনিকায়নের মাধ্যমে নিরাপদ শহর গড়ে তোলা হবে।
* তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ড জোরদার করা হবে।
পৌরবাসীর প্রত্যাশা: সাধারণ মানুষের মতে—"পৌরবাসীর সুখে-দুঃখে আছি, থাকবো সবসময়"—এই বক্তব্য হাতেম খানের ক্ষেত্রে কেবল ফাঁকা বুলি নয়, বরং তাঁর আজীবন চর্চিত রাজনৈতিক দর্শন। আগামী দিনে একটি উন্নত ও শান্তিময় পৌরসভা গঠনে এই পরীক্ষিত নেতার ওপরই আস্থা রাখতে চান স্থানীয় সচেতন জনগণ।