গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সৌদি আরবপ্রবাসী এক যুবকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়ার চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রীর দাবি, বিয়ের আগে যৌতুকের কোনো শর্ত না থাকলেও দেশে ফিরে স্বামী ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযুক্ত মো. আরিফ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামের আব্দুল মান্নান শেখের ছেলে। তাঁর স্ত্রী মোছা. উম্মে তামান্না একই গ্রামের মো. দুলাল প্রামাণিকের মেয়ে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তিন লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে পারিবারিকভাবে ভিডিও কলের মাধ্যমে আরিফ ও তামান্নার বিয়ে হয়। এ সময় নগদ এক লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধ করা হয় বলে জানা গেছে। বিয়ের পর তামান্না প্রায় এক বছর স্বামীর বাড়িতে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে বসবাস করেন।
তামান্নার অভিযোগ, এ সময় তাঁর গলায় থাকা দেনমোহরের অংশ হিসেবে দেওয়া স্বর্ণের চেইন এবং বাবার দেওয়া নাকফুল হারিয়ে যাবে বলে তাঁর শ্বশুর আব্দুল মান্নান শেখ বিভিন্নভাবে সেগুলো খুলে নেন। পরে তাঁকে বাবার বাড়িতে রেখে বলা হয়, আরিফ দেশে ফিরলে তাঁকে আবার নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর থেকে তামান্না বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
তামান্না ও তাঁর পরিবারের দাবি, প্রায় দুই থেকে তিন মাস আগে আরিফ সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরলেও স্ত্রী বা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। পরে তাঁরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে আরিফের পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তামান্নার পরিবারের। এ ছাড়া আরিফ অন্যত্র বিয়ে করার জন্য পাত্রী দেখছেন—এমন খবরও প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন।
পরিস্থিতির বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করলে তাঁরা পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তামান্নার পরিবার গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। অভিযোগটি তদন্তে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব এলাকায় যান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ছেলের বাবা আব্দুল মান্নান শেখের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর সামনে মেয়ের পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করার অভিযোগও ওঠে।
পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য থানায় উভয় পক্ষকে ডাকা হয়। তবে তামান্না ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা থানায় উপস্থিত হলেও প্রথমবার ছেলেপক্ষের কেউ উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। পরে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রোববার সকাল ১০টার দিকে তামান্না ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা থানায় যান। দুপুর ২টার দিকে আরিফের বাবা ও কয়েকজন ব্যক্তি থানায় উপস্থিত হলেও আরিফ নিজে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেন বলে জানান তামান্নার পরিবার। তবে তাঁদের দাবি, ছেলেপক্ষ সমাধানের উদ্যোগে সম্মত না হয়ে থানা থেকে চলে যায়।
ভুক্তভোগী তামান্না বলেন, বিয়ের আগে যৌতুকের কোনো শর্ত ছিল না। অথচ এখন পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, যৌতুকের দাবির অভিযোগ তদন্ত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন তামান্না।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফ ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।