তিনি একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দুটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং একটি ফিল্মফেয়ার ওটিটি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মান অর্জন করেছেন।
২০২৩ সালে তিনি ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ লাভ করেন — যা তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনের অবদানের স্বীকৃতি।
রবিনা ১৯৭২ সালের ২৬ অক্টোবর বোম্বে (বর্তমান মুম্বই)-তে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতা বিশিষ্ট পরিচালক রবি ট্যান্ডন এবং মাতা বীণা ট্যান্ডন।
তিনি জুহুর জামনাবাঈ নার্সি স্কুল ও মিথিবাঈ কলেজে পড়াশোনা করেন।
অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে কলেজ জীবনের মাঝপথেই তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন।
জেনেসিস পিআর-এ ইন্টার্ন থাকা অবস্থায়ই তিনি তাঁর প্রথম চলচ্চিত্রের প্রস্তাব পান এবং গ্রহণ করেন।
১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘পাথর কে ফুল’-এর মাধ্যমে রবিনা ট্যান্ডন বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন।
এই চলচ্চিত্রেই তিনি ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন।
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে বাণিজ্যিকভাবে সফল বেশ কিছু
চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন —
‘দিলওয়ালে’ (১৯৯৪), ‘মোহরা’ (১৯৯৪), ‘খিলাড়িয়োঁ কা খিলাড়ি’ (১৯৯৬) এবং ‘জিদ্দি’ (১৯৯৭) তাঁর ক্যারিয়ারের জনপ্রিয় মাইলফলক।
‘মোহরা’ চলচ্চিত্রের “তু চিজ বড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত” গানে তাঁর ঝলক আজও দর্শকদের মনে অমলিন।
১৯৯৪ সালের নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র ‘লাডলা’-তে অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে মনোনীত হন।
১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে তিনি গোবিন্দার সঙ্গে একাধিক সফল কমেডি ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন —
যেমন ‘বড়ে মিয়াঁ ছোটে মিয়াঁ’ (১৯৯৮), ‘দুলহে রাজা’ (১৯৯৮) এবং ‘আনারি নং ১’ (১৯৯৯)।
এছাড়াও তিনি ‘গুলাম-ই-মুস্তাফা’ (১৯৯৭) এবং ‘শূল’ (১৯৯৯)-এর মতো গম্ভীর ও অপরাধভিত্তিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রমাণ করেন, তিনি কেবল গ্ল্যামারাস নন, বরং গভীর চরিত্রাভিনয়ে পারদর্শী।
২০০০-এর দশকে রবিনা শিল্পধর্মী ও সামাজিক বার্তাবহ চলচ্চিত্রের দিকে ঝুঁকেন।
‘দমন’ (২০০১) চলচ্চিত্রে গার্হস্থ্য নির্যাতনের শিকার নারীর চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা অভিনেত্রী) অর্জন করেন।
একই বছরে ‘আক্স’ (২০০১) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার স্পেশাল পারফরম্যান্স পুরস্কার পান।
চলচ্চিত্র বিতরণকারী অনীল ঠাডানিকে বিয়ে করার পর তিনি কিছু সময়ের জন্য অভিনয় থেকে বিরতি নেন।
তবে টেলিভিশনে তাঁর উপস্থিতি বজায় রাখেন —
‘সাহেব বিবি গুলাম’ (২০০৪), ‘চক দে বচ্চে’ (২০০৮), ‘ইসি কা নাম জিন্দেগি’ (২০১২) এবং ‘সিম্পলি বাতেঁ উইথ রবিনা’ (২০১৪)-এর মতো অনুষ্ঠানে তিনি সঞ্চালক ও বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৭ সালে ‘মাতৃ’ চলচ্চিত্রে ফিরে এসে রবিনা আবারও নিজের শক্তিশালী উপস্থিতি জানান দেন।
এরপর ২০২১ সালে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ক্রাইম থ্রিলার সিরিজ ‘আরণ্যক’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার ওটিটি পুরস্কার (সেরা অভিনেত্রী) লাভ করেন।
২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ছবিগুলোর একটি, যেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সহ-অভিনয় চরিত্রে অভিনয় করেন।
রবিনা ট্যান্ডন শুধুমাত্র একজন সফল অভিনেত্রীই নন, তিনি একজন সক্রিয় পরিবেশবাদী ও প্রাণীপ্রেমী।
২০০২ সাল থেকে তিনি PETA (People for the Ethical Treatment of Animals)-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রাণী অধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি চার সন্তানের মা — যাদের মধ্যে দুইজন দত্তক নেওয়া সন্তান এবং দুইজন নিজের সন্তান।
চলচ্চিত্র জগতে সৌন্দর্য, প্রতিভা, সাহস ও মানবিকতার অপূর্ব সমন্বয় — রবিনা ট্যান্ডন আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা