ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মত-দ্বিমত ভুলে এক মঞ্চে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে যোগ দেয় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলো।
ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় সমাবেশে বক্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সমাবশে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর ১৬ মাস পেরিয়ে গেলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি ঘটেনি। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার পর্যাপ্ত দক্ষতা, যোগ্যতা ও তৎপরতার ঘাটতি স্পষ্ট। ফলে অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে শুধু এসব সংস্থার ওপর নির্ভর করে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের মরিয়া খুনের কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান এ হুমকি রুখতে হলে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে সর্বস্তরে জননিরাপত্তার নিজস্ব সংস্থা গড়ে তুলতে হবে।’’
আগামীকাল থেকে দেশের সবগুলো ওয়ার্ডে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গণকমিটি’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান আমার দেশ সম্পাদক। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ভারতের দালালদের হাতে তুলে দেব না’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা আরও অসংখ্য ভাই জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। শুধু হাদি ভাইয়ের প্রয়োজনে নয়, আমরা গোটা বাংলাদেশের প্রয়োজনের এখানে (সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ) একত্রিত হয়েছি।’’
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘‘গণঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোকে মাথায় রাখতে হবে, শত্রুসাপেক্ষে বয়ানের রাজনীতিকে যেমন মোকাবিলা করতে হবে। তেমনি শত্রুসাপেক্ষে আজাদির লড়াইকেও হেফাজত করতে হবে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, এটাই হচ্ছে আজাদি ধরে রাখার একমাত্র বাহন। এছাড়া আর কোনো লড়াই নাই। আমরা চাই, নতুন করে আবার ইনকিলাব জিন্দাবাদ হয়ে, আজকে যেভাবে হাদির কণ্ঠকে সারা বাংলাদেশ আত্মস্থ করেছিল সেই ইনকিলাব আবাবিলের মতো আসমান থেকে ফেরত আসবে। আমরা জানি বাংলাদেশের একাত্তরের আজাদির লড়াইটা কীভাবে ভারত গ্রাস করেছিল, সেই নায়ক এবং খলনায়ক কারা ছিল। আমরা সুস্পষ্টভাবে জানি, সীমান্তের ওপারে যারা আছে তারা আমাদের বন্ধু ছিল না।
‘‘ভারতীয় আধিপত্যকে বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক অঙ্গল থেকে শুরু করে, বৃদ্ধিজীবীদের থেকে শুরু করে, আইন অঙ্গনের লোকদের কব্জ করে ফেলা হয়েছে’’ বলে মন্তব্য করেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
তিনি বলেন, ‘‘একটা অংশ তাদের মাথা বিক্রি করে দিয়েছে। আরেকটা অংশ সচেতনভাবে বাংলাদেশে থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এই ভিনদেশি ‘এসেটদের’ (সম্পদ) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজন ওসমান হাদি দাড়িয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের এসেট, আর ভিনদেশি এসেটরা তাকে মারা জন্য যুক্তি উৎপাদন করেছে। তাকে যখন মারা হয়েছে, তখন সবগুলো নীরব হয়ে বসে রয়েছে। কোনো শব্দ নেই, কোনো কথা নেই। সবাই আমাদের সাথে নাটক করতেছে।’’
মাহফুজ আলম বলেন, ‘‘জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে যে লড়াই করার কথা ছিল, সে লড়াইয়ে আমরা পরাস্ত হয়েছি বলেই আমাদের একজন জুলাই বীর শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই লড়াই অনেক দীর্ঘ। আমরা প্রথম দিকে বলেছিলাম, মুজিববাদের মূলোৎপাটন করতে হবে। কিন্তু মুজিববাদের শিখড় বাংলাদেশে এমন গভীরে পতিত যে, একে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকভাবে সকল অর্থেই মোকাবেলার শক্তি ও সামর্থ অর্জনের চেষ্টা অথবা লড়াইয়ের দিকে এগোনোর চেষ্টা খুব কমই দেখেছি। এই ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার একটা উদ্যোগ। এর বাইরে আমরা খুব কমই উদ্যোগ দেখেছি।’’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘‘ভারতীয় হাইকমিশন যদি এদেশের মানুষের আবেগ অনুভূতি বুঝতে না পারে, তাহলে বাংলাদেশে সেই হাইকমিশন বন্ধ করে দেয়া হবে। এই মানুষগুলোর (কমিশনের সদস্যরা) এ দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।’’
সারজিস আলম ওসমান হাদির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আবু সাইদের বুকে গুলি চালিয়ে যেমন দমানো যায়নি, তেমনি হাদির ওপর হামলা করেও আমাদের স্পিরিটকে দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এদেশের লাখো 'হাদি' বেঁচে থাকতে তা হতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, "খুনি হাসিনা ও হাদির হামলাকারীদের ভারতে আশ্রয় দিয়ে এ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে তা হবে না।"
