এই মঙ্গলবার নিশ্চয়ই তারেক রহমান তার সারাজীবনে চাননি। এই ৩০ ডিসেম্বর নিশ্চয়ই চাননি।
কতোদিন পর কতো কতো বছর পর তিনি ফিরে এলেন দেশে। নিশ্চয়ই তিনি মা’কে পাশে চেয়েছিলেন। বাবা জিয়াউর রহমানকে হারিয়ে মা যখন রাজপথে এলেন, তখন তার পাশেই থেকেছেন তারেক রহমান। সে সময় তারেকের বয়স ছিল খুবই অল্প।
একদিন তারেক রহমানকে দেশ ছাড়া হতে হয়েছিল। তার ছোটো ভাই আরাফাত রহমান কোকো’র মৃত্যু সংবাদ পান বিদেশের মাটিতে। মেষ দেখা দেখতে পারেননি। বেশ কয়েকবছর থেকে বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ ছিলেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার তাকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে দেয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কিছুদিনের জন্যে বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন যান।
সেসময় তারেক রহমান নিজে ড্রাইভ করে বিমানবন্দরে এসে নিয়ে যান মা’কে বাসায়। পরে হাসপাতালে। প্রতিদিন হাসপাতালে যেয়ে সেবাযত্ন করতেন।
এবার দেশে ফেরার পরও প্রতিদিনই এভার কেয়ারে ছুটে গেছেন।
কিন্তু হায় কিছু বুঝে ওঠার আগে আব্বার মৃত্যু। রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের পর সপ্তাহ না পেরুতেই মায়ের মৃত্যু। মধ্যে ছোটো ভাইয়ের মৃত্যু তারেক রহমানকে নিশ্চয়ই খুব একাকী ও বিষন্ন করে দিয়েছে আজ।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সময় হাসপাতালে তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছেলের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, নাতনী জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ সকল আত্মীয় স্বজন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সকল চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
মায়ের মৃত্যুর চুড়ান্ত ঘোষণা শোনার পরপরই তারকে রহমানের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে। সারা অবয়বে বিষন্নতার ছাপ।
নিশ্চয়ই এমন সকাল চাননি তারেক রহমান ।
