যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শরীরে বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শের চেয়ে বেশি মাত্রায় অ্যাসপিরিন গ্রহণ করছেন। হাতের কালশিটে দাগ ঢাকতে মেকআপ ব্যবহার করেন। নিয়মিত শরীরচর্চা করাকে ‘বিরক্তিকর’ মনে করে এড়িয়ে চলেন তিনি। অথচ তার স্বাস্থ্য নিয়ে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তিনি ‘নিখুঁত’ স্বাস্থ্যের অধিকারী।
ট্রাম্প স্বীকার করেন যে গত অক্টোবরে তার আসলে সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল। অথচ এর আগে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ভুল তথ্য দিয়ে বলেছিলেন, তার বিস্তৃত এমআরআই স্ক্যান করা হয়েছে।
মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন সভায় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং অনেক সময় তিনি অন্যদের প্রশ্ন শুনতে পান না। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া আলোচনা–বিতর্কে ট্রাম্প ‘বিরক্তি’ প্রকাশ করেছেন। তার স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতির সময় হঠাৎ একটি টেলিফোন কলে ট্রাম্প বলেন, ‘চলুন ২৫তম বারের মতো স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলি। আমার স্বাস্থ্য একদম নিখুঁত।’
ট্রাম্প জানান, ২৫ বছর ধরে তিনি নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ অ্যাসপিরিন সেবন করছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, এর ফলে তার শরীরে দ্রুত কালশিটে দাগ পড়ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘লোকে বলে অ্যাসপিরিন রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে। আমি চাই না, আমার হৃৎপিণ্ড দিয়ে ঘন রক্ত প্রবাহিত হোক।’
চিকিৎসকেরা সাধারণত ৮১ মিলিগ্রামের পরামর্শ দিলেও ট্রাম্প প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন সেবন করেন। দীর্ঘদিনের এই রুটিন বদলাতে চান না জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কিছুটা কুসংস্কারে বিশ্বাসী।’
এর আগে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারে করানো পরীক্ষা নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, সেটি এমআরআই স্ক্যান ছিল। কিন্তু এবার তিনি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন, ‘সেটি এমআরআই ছিল না। ছিল সাধারণ একটি স্ক্যান।’
এদিকে শরীরচর্চার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, গলফ খেলা ছাড়া অন্য কোনো ব্যায়াম তার পছন্দের নয়। তার ভাষায়, ‘আমি এটা পছন্দ করি না, এটা বিরক্তিকর। কিছু লোকের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেডমিলে হাঁটা বা দৌড়ানো আমার জন্য নয়।’
প্রকাশ্যে সভায় ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেন, চোখ বন্ধ রাখাটা তার কাছে ‘আরামদায়ক’ মনে হয়। আর হাতে পড়া কালশিটে দাগ ঢাকতে তিনি মেকআপ ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এমন মেকআপ আছে; যা লাগানো খুব সহজ, মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় লাগে।’
শ্রবণশক্তির সমস্যার কথাও অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। ছবি তোলার সময় তাঁকে ঘুমন্ত দেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে চোখের পলক ফেলার সময় আলোকচিত্রীরা ছবি তোলেন এবং সেই মুহূর্তটিই তারা ধরে ফেলেন।’
