শীত এলেই অনেকের পায়ের দিকে তাকালেই মন খারাপ হয়ে যায়। গোড়ালি শুকিয়ে ফেটে যায়, কোথাও চিড় ধরে, কোথাও আবার হাঁটলেই ব্যথা লাগে। কারও কারও ক্ষেত্রে রক্তও বেরোয়। বাইরে থেকে ছোট সমস্যা মনে হলেও, ভোগান্তিটা কিন্তু কম নয়।আসলে শীতের শুষ্ক আবহাওয়া আর পায়ের যত্নে একটু ঢিলেমি-এই দুটো একসঙ্গে হলেই গোড়ালি ফাটার ঝামেলা শুরু হয়। ভালো খবর হলো, এই সমস্যা সারাতে দামি কিছু লাগে না। ঘরের ভেতরেই আছে সহজ সমাধান। একটু নিয়ম মেনে চললেই ধীরে ধীরে আগের মতো নরম আর সুন্দর পা ফিরে পাওয়া যায়।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত খবরে এমন কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়েছে। চলুন জেনে নিই বিস্তারিত-
শীতে গোড়ালি ফাটার কারণ
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। ফলে ত্বক দ্রুত শুকিয়ে যায়। তার ওপর যদি নিয়ম করে পা পরিষ্কার না করা হয়, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করা হয়, তাহলে গোড়ালির চামড়া শক্ত হয়ে ফেটে যেতে শুরু করে। খোলা স্যান্ডেল, শক্ত জুতো বা দীর্ঘক্ষণ খালি পায়ে চলাফেরাও সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়।
ফাটা গোড়ালি সারানোর সহজ উপায়
গরম পানিতে পা ভেজানো : দিন শেষে ১০-১৫ মিনিট হালকা গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখুন। সপ্তাহে ৩-৪ দিন করলেই ভালো ফল পাবেন। এতে শক্ত হয়ে থাকা চামড়া নরম হয়। পানিতে অল্প লবণ বা কয়েক ফোঁটা তরল সাবান দিলে পা ভালোভাবে পরিষ্কারও হবে।
মৃত চামড়া তুলতে স্ক্রাবিং: পা ভেজানোর পর পিউমিক স্টোন বা ফুট স্ক্রাবার দিয়ে ধীরে ধীরে গোড়ালি ঘষুন। খুব জোরে নয়। এতে মৃত চামড়া উঠে যাবে, কিন্তু নতুন চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সপ্তাহে এক-দু’বার করাই যথেষ্ট।
রাতে ময়েশ্চারাইজার লাগানো: গোড়ালি নরম রাখতে তেলের জুড়ি নেই। নারকেল তেল, সরষের তেল, অলিভ অয়েল, গ্লিসারিন বা খাঁটি ঘি-যেটা হাতের কাছে আছে, সেটাই ব্যবহার করুন। পা ধুয়ে ভালো করে মুছে নিয়ে ঘুমানোর আগে গোড়ালিতে ময়েশ্চারাইজার লাগান। তারপর সুতির মোজা পরে নিন। সারারাত ত্বক আর্দ্র থাকবে।
মধু-হলুদের প্যাক: যদি গোড়ালি খুব বেশি ফেটে যায়, তাহলে হলুদ আর মধু মিশিয়ে প্যাক বানান। গোড়ালিতে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। হলুদ জীবাণু কমায়, আর মধু চামড়া নরম করে।
ঠিক জুতো পরা: শীতে খুব শক্ত সোলের জুতো বা হিল পরা এড়িয়ে চলুন। নরম সোলের বন্ধ জুতো বা কুশন দেওয়া স্যান্ডেল গোড়ালির উপর চাপ কমায়। এতে ফাটার ঝুঁকিও কমে।
