সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দিনাজপুরে শীতের দাপট, মৃদু শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

দিনাজপুরে শীতের দাপট, মৃদু শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

দিনাজপুরে শীতের দাপট, মৃদু শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

জানুয়ারির শুরুতেই দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছে। কনকনে ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা এবং বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোর ও সকাল বেলার দিকে বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে এবং হাড় কাঁপানো ঠান্ডার সঙ্গে কুয়াশা মিলিয়ে জনজীবন আরও ঝঞ্ঝাটপূর্ণ হয়ে যায়।

দিনাজপুরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গত এক দিনের ব্যবধানে জেলায় তাপমাত্রা কমে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। কুয়াশা ও শীতের প্রভাবে মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। টানা তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডায় শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। গৃহপালিত পশুরাও তীব্র শীতে দুর্ভোগে পড়েছে।

সোমবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে, রোববার ১১.৬ ডিগ্রি, শনিবার ১০.৫ ডিগ্রি এবং ১ জানুয়ারি ৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বর্তমানে তাপমাত্রা জেলায় ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক, কৃষিজীবী ও অন্যান্য শ্রমজীবী। ভোরের দিকে বাইরে কাজের জন্য বের হওয়া কঠিন হওয়ায় অনেকের দৈনন্দিন আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন।

চিরিরবন্দরের রানীরবন্দর বাসস্ট্যান্ডে রিকশা-ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম জানান, “প্রচণ্ড শীতে ঘর থেকে বের হওয়াই কঠিন। জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে বাইরে আসতে হয়। ঠান্ডা তো পেটের কথা বোঝে না।”

গহাইর গ্রামের কৃষক আনোয়ার সাদাত জানান, “শীতের কারণে বোরো বীজতলা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন।”
ইজিবাইক চালক সামিউল বলেন, “কয়েক দিন ধরে ঠান্ডার কারণে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত যাত্রী পাওয়া যায় না। এতে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।”

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, জেলায় রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য কম হওয়ায় দিন-রাত সমানভাবে শীত অনুভূত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে শীত আরও বাড়তে পারে।

রিপোর্টারদের মতে, শীতের এই অবস্থা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বেড়েছে।