গত কয়েক বছরের মতো এবারও সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব চোখে পড়ছে। অর্থ বা প্রভাবের বিচারে বড় দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দলগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন কোটিপতি প্রার্থীরা। বিএনপি-জামায়াত থেকে শুরু করে জাতীয় পার্টি ও এনসিপি সব দলেই দেখা যাচ্ছে ধনীর প্রাধান্য। তবে একেবারেই রিক্তশূন্য ব্যতিক্রমও রয়েছেন কিছু প্রার্থী। এই ধনী-গরিবের মিশেল নির্বাচনকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। প্রশ্ন থেকেই যায় শেষ পর্যন্ত পাল্লা কার দিকে ঝুঁকছে?
নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকতে এবারও জোরালোভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কয়েকশ প্রার্থী। বরাবরের মতো তাদের আয়-ব্যয় ও সম্পদ নিয়েও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা ও বাস্তবতার মধ্যে কয়েক বছরের ব্যবধানেই স্পষ্ট ফারাক লক্ষ্য করা যায়।
হলফনামা অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকজন কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন। পেশায় রাজনীতিক হলেও সম্পদে সবার ওপরে আছেন চট্টগ্রাম ৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। তার মোট সম্পদ ৪৫৭ কোটি টাকা।
অন্যদিকে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সম্পদে সর্বনিম্ন অবস্থান নিয়েছেন পাবনা-৫ আসনের প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। হলফনামায় তার মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে মাত্র ৯৬ লাখ টাকা।
দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় না থেকেও ২০১৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে ফিরেছেন আশা দল ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা যাদের মধ্যে ডজনেরও বেশি কোটিপতি। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন দলটির ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী ব্যবসায়ী মো. এনায়েত উল্লাহ; তার সম্পদ ১১৬ কোটি টাকা। বিপরীত দিকের দিকে রাজবাড়ী - ২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদের মোট সম্পদ মাত্র দুই লাখ টাকা।
নবীন এনসিপির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক হলেন ঢাকা-২০ আসনের প্রার্থী প্রকৌশলী নাবিলা তাহসিন, যার মোট সম্পদ ৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। অপরদিকে সর্বনিম্ন সম্পদের মালিক নরসিংদী - ২ আসনের তুষার সারোয়ার, যার সম্পদ মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
রাজনীতিতে জনসমর্থন কম থাকলেও অর্থের বিচারে মোটামুটি ভালো অবস্থানেই রয়েছেন সদ্য বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া নুরুল হক নূর। তার মোট সম্পদ ৯০ লাখ টাকা। তার চেয়ে প্রায় লাখ দশেক কম সম্পদের মালিক গণ অধিকার থেকে পদত্যাগ করা রাশেদ খান।