শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গাজায় টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন

গাজায় টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন

গাজায় টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় গত ১৪ জানুয়ারি এই সরকার গঠন করা হয় বলে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

 

 

নতুন এই প্রশাসনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধপরবর্তী এক অন্তর্বর্তী সময়ে এই সংস্থাটি গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে। অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির নাজুক দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন এই কাঠামো সামনে এনেছে বলে জানান তিনি।

 

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক গভর্নমেন্ট’ নামে পরিচিত এই কাঠামোর আনুষ্ঠানিক নাম হবে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা। এটি একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে, যার মূল লক্ষ্য দীর্ঘ যুদ্ধের পর গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

 

এই টেকনোক্র্যাট সরকার একটি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধায়ক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে, যার নাম দেওয়া হয়েছে বোর্ড অব পিস। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নিজেই এই বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন এবং শিগগিরই অন্যান্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাস নীতিগতভাবে এই কাঠামোয় সম্মতি দিলেও বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক ও বাস্তব জটিলতা এখনো রয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।

 

অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে। একই সময়ে তিনজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

 

গাজা-মিসর সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু করতে ইসরায়েলের দেরি, হামাসের অস্ত্র ত্যাগে অস্বীকৃতি এবং ইসরায়েলি বন্দিদের মরদেহ সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতে, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পরিধি এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের প্রশ্নগুলো এই পর্যায়ের মূল আলোচ্য বিষয়। ট্রাম্প বলেছেন, মিসর, কাতার ও তুরস্ক হামাসের সঙ্গে একটি ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি’ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে।

 

 

মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর, কাতার ও তুরস্কের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নতুন ফিলিস্তিনি শাসন কমিটিতে ১৫ জন সদস্য থাকবেন। এর নেতৃত্ব দেবেন আলি শাথ, যিনি পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী। তিনি শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতা নন বলে পরিচিত।

তবে প্রস্তাবিত শাসন কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি তত্ত্বাবধায়ক বোর্ড কার্যত বিদেশি বা ঔপনিবেশিক শাসনের রূপ নিতে পারে, যা ফিলিস্তিনিদের আত্মশাসনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি এই কাঠামোয় ফিলিস্তিনিদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তসহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থা এই অভিযানকে গণহত্যার শামিল বলে উল্লেখ করলেও ইসরাইল তা প্রত্যাখ্যান করে আত্মরক্ষার যুক্তি তুলে ধরছে।