শুক্রবার, জুলাই ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শুধু মুখেই বলি, নাকি সত্যিই আল্লাহর ওপর ভরসা করি?

শুধু মুখেই বলি, নাকি সত্যিই আল্লাহর ওপর ভরসা করি?

শুধু মুখেই বলি, নাকি সত্যিই আল্লাহর ওপর ভরসা করি?

জীবনের ভারে আমরা অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ি। ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, বাস্তবতা নিয়ে অভিযোগ আর নিজের ওপর অযথা চাপ—এসব আমাদের মনকে দুর্বল করে দেয়। অথচ আমরা ভুলে যাই, আমাদের রব সেই আল্লাহ— যিনি আমাদের শ্বাসের চেয়েও বেশি কাছে, যিনি আমাদের কল্পনার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন।

 

প্রশ্ন হলো—আমরা কি সত্যিই আল্লাহর ওপর ভরসা করি? নাকি শুধু মুখে বলি?

তাওয়াক্কুল: মুমিনের শান্তির উৎস

আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) মানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয় বরং নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে ফলাফলের ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া। কুরআন কারিমে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন—

وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৩)

এই একটি আয়াতই একজন চিন্তাগ্রস্ত হৃদয়ের জন্য যথেষ্ট সান্ত্বনা।

অতিরিক্ত চিন্তা ও অভিযোগ: ইমান দুর্বল হওয়ার লক্ষণ

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আমাদের মনকে অবসন্ন করে এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর অসন্তুষ্টি জন্ম দেয়। আর কুরআনের দিকনির্দেশনা হলো—

لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ

‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা যুমার: আয়াত ৫৩)

অভিযোগ নয়, বরং ধৈর্য ও দোয়ার মাধ্যমে কষ্ট আল্লাহর কাছে তুলে ধরাই মুমিনের পরিচয়।

আল্লাহ আপনাকে কল্পনার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন

অনেক সময় আমরা ভাবি— ‘আমি হয়তো ভুলে গেছি’, ‘আমার দোয়া কবুল হচ্ছে না।’ অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। কুরআনে আল্লাহর আশ্বাস হলো—

فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ

‘নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। ডাকার সময় ডাকার দোয়ায় আমি সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৬)

আল্লাহ কখনো বান্দার চাওয়া-পাওয়া বা দোয়া ফিরিয়ে দেন না—

হয় দুনিয়াতে দেন, নয়তো আখিরাতের জন্য জমা রাখেন অথবা কোনো বিপদ দূর করে দেন। হাদিসের আলোকে আশার বাণী হলো—

عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ

‘মুমিনের অবস্থা বিস্ময়কর। সকল কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কেউ এ বৈশিষ্ট্য লাভ করতে পারে না। তারা সুখ-শান্তি লাভ করলে শুকর-গুজার করে আর অস্বচ্ছলতা বা দুঃখ-মুসিবতে আক্রান্ত হলে সবর করে, প্রত্যেকটাই তার জন্য কল্যাণকর।’ (মুসলিম ৭৩৯০)

 

এ হাদিস থেকেই প্রমাণিত যে, কষ্টেও কল্যাণ আছে— যদি বিশ্বাস থাকে।

আজকের অস্থির সময়ে একজন মুমিনের করণীয়—

> অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ছেড়ে দেওয়া– কেননা ভবিষ্যৎ আল্লাহর হাতে

> অভিযোগ কমিয়ে দোয়া বাড়ানো

> নিজেকে অযথা মানসিক চাপ না দেওয়া

> নিয়মিত নামাজ আদায় ও কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা

> নিজেকে এ কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে— আল্লাহ কখনো ভুল করেন না

আপনি একা নন। আপনার কষ্ট আল্লাহ দেখছেন। আপনার অশ্রু তিনি গুনে রাখছেন। যে রব মায়ের চেয়েও স্নেহশীল— তিনি কখনো তার বান্দাকে হতাশ করেন না।

 

আজ যদি জীবন ভারী মনে হয়, একবার মাথা নত করে বলুন— ‘হে আল্লাহ, আমি চেষ্টা করেছি। এখন সবকিছু তোমার হাতে।’ বিশ্বাস রাখুন— আল্লাহ আপনাকে আপনার কল্পনার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। আর যার ওপর ভরসা করা হয়, তিনি কখনো ভরসা ভাঙেন না।