আদালতে হ*ত্যার দায় স্বীকারের যে নাটক করলেন সাইকো সম্রাট।
সাভারের আলোচিত সিক্স মা*র্ডার মামলায় ধরা পড়া সাইকো সম্রাট—একটি নাম, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর নৃশংসতার দীর্ঘ ছায়া।
সিসিটিভি ফুটেজই তার নীরব মুখোশ খুলে দেয়। পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর, তদন্ত কক্ষে সে স্বীকার করেছিল র*ক্তাক্ত সেই সত্য। কিন্তু আদালতের কাঠগড়ায় এসে শুরু হয় আরেক নাটক—চাতুর্যের, ধোঁয়াশার, নিজেকে পাগল প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা।
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা যখন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির আবেদন করেন, তখন সময় যেন থমকে দাঁড়ায়।
বিকেল তিনটায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আনা হলে সাইকো সম্রাট হঠাৎই হয়ে ওঠে এলোমেলো।
কখনো অসংলগ্ন কথা, কখনো নীরবতা।
কখনো বলে—চা চাই, কখনো বলে—খাবার চাই।
তার প্রতিটি চাহিদা পূরণ করা হয়, কিন্তু সে এড়িয়ে যেতে থাকে মূল প্রশ্ন—সে কি খুনি?
ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে থাকে।
এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা…
প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলে আদালতের ধৈর্যের পরীক্ষা।
সে বোঝাতে চায়—সে সুস্থ নয়, সে দায়ী নয়, সে কিছুই নয়।
কিন্তু সত্য বড় নির্দয়।
সত্য অপেক্ষা করতে জানে।
অবশেষে সন্ধ্যার ভারী নীরবতার ভেতর ভেঙে পড়ে তার সাজানো দেয়াল।
ছয়টি প্রাণের ভার আর বহন করতে পারে না তার কণ্ঠ।
এক এক করে বেরিয়ে আসে ভ*য়ংকর সেই স্বীকারোক্তি।
সাভারের ছয় খুনের দায় অবশেষে সে নিজ মুখেই স্বীকার করে নেয়।
আদালতের এজলাস তখন শুধু বিচারালয় নয়—
তা হয়ে ওঠে ছয়টি নিভে যাওয়া জীবনের নীরব স্মৃতিস্তম্ভ।
যেখানে একদিকে একজন খুনির স্বীকারোক্তি,
অন্যদিকে সমাজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নির্মম প্রশ্ন—
মানুষ কতটা নীচে নামলে এমন হ*ত্যাযজ্ঞ সম্ভব হয় হয়েছে।
