বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইসরাইলের পশ্চিম তীর দখলের পদক্ষেপে ট্রাম্পের বিরোধিতা

ইসরাইলের পশ্চিম তীর দখলের পদক্ষেপে ট্রাম্পের বিরোধিতা

ইসরাইলের পশ্চিম তীর দখলের পদক্ষেপে ট্রাম্পের বিরোধিতা

অধিকৃত পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণের বিষয়ে ইসরাইলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সোমবার (৯ জানুয়ারি) জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে এই অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ বলে মনে করেন।

 

রয়টার্সের বরাতে ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেন যে একটি স্থিতিশীল পশ্চিম তীর ইসরাইলকে নিরাপদ রাখে এবং বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এই নীতিতেই অটল রয়েছে।

ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদারি বাড়ানোর জন্য নতুন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করার পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এলো।

 

ইসরাইলি নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের অনুমোদিত এই নতুন নিয়মগুলোর মাধ্যমে অবৈধ বসতি স্থাপনের জন্য জমি দখল করা সহজ হবে। বিশেষ করে হেব্রনের মতো বড় শহরগুলোতে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সরাসরি ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 


ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি মুসলিম প্রধান দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে একে ‘অবৈধ এবং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে। তারা মনে করে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পশ্চিম তীরের ওপর অবৈধ সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক্ষেপকে ‘অস্থিতিশীল’ এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে বড় অন্তরায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি জনগণের নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকারকে খর্ব করছে।

 

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকার এবং স্পেনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক বা জনতাত্ত্বিক কাঠামো পরিবর্তনের যেকোনো একতরফা চেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

উল্লেখ্য, ইসরাইলি মন্ত্রী স্মোট্রিচ প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে চিরতরে কবর দেওয়া। তবে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে যে, ইসরাইলের এই সম্প্রসারণবাদী নীতি এবং দখলদারিত্ব গাজায় চলমান সহিংসতাকে আরও উসকে দিতে পারে এবং শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।