সাতক্ষীরা সহ সারাদেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হঠাৎ এই ভূকম্পন অনুভূত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবন ছেড়ে অনেকেই রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা এবং ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ.ন.ম গাউছার রেজা বলেন, ভূমিকম্প মূলত পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে ঘটে। তবে ভারী বৃষ্টিপাত, নদীর পানি বৃদ্ধি বা ভূমির অতিরিক্ত চাপ কিছু ক্ষেত্রে ভূ-পৃষ্ঠের দুর্বল এলাকায় কম্পনের প্রভাব বাড়িয়ে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, ভূমিকম্প হয় মূলত ভূ-অভ্যন্তরে সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ নির্গত হওয়ার ফলে। এ কারণে আবহাওয়া পরিবর্তন ভূমিকম্প সৃষ্টি করে না, তবে ভূমিকম্পের পর ভূমির প্রতিক্রিয়া আবহাওয়া ও পরিবেশগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
সহকারী অধ্যাপক গাউছার রেজা আরও বলেন, সাতক্ষীরা জেলা ভূতাত্ত্বিকভাবে পলিমাটি দ্বারা গঠিত সমতল ভূমি, যা গাঙ্গেয় বদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত। জেলার ভেতর দিয়ে কপোতাক্ষ, মরিচাপ, খোলপেটুয়া, বেতনা, রায়মঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা, ইছামতি ও কালিন্দী-যমুনাসহ বহু নদী প্রবাহিত হয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে শ্যামনগর উপজেলা, সুন্দরবন ও জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত।
ভূমিকম্পে প্রাণহানি এড়াতে সতর্কতার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের :
ভূমিকম্প একটি আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হলেও সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ভূমিকম্প চলাকালে করণীয়:
ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্কিত না হয়ে ঘরের ভেতরে থাকলে শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে মাথা ঢেকে আশ্রয় নিতে হবে। জানালা, কাচ, আলমারি, ঝুলন্ত ফ্যান ও ভারী বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে এবং এসময় লিফট ব্যবহার না করা।
বাইরে অবস্থান করলে খোলা জায়গায় সরে গিয়ে ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ ও বিলবোর্ড থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যানবাহনে থাকলে গাড়ি থামিয়ে ভেতরেই অবস্থান করতে বলেন বিশেষজ্ঞরা ।
নদী ও উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় নদীর পাড়, বাঁধ ও সেতু থেকে দূরে সরে গিয়ে নিরাপদ উঁচু স্থানে অবস্থান করা জরুরি।
ভূমিকম্প পরবর্তী ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি :
ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইনে ক্ষতি হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা। ঘরে ফাটল বা কাঠামোগত ক্ষতির লক্ষণ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ভবনে প্রবেশ না করা।
