যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর চীনের 'সতর্ক' ও পরিমিত প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে থাকা কৌশলগত কারণগুলো আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চীন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করলেও তেহরানকে কোনো সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
বেইজিংয়ের এই অবস্থানের মূল কারণ হলো তারা ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে চায়, কিন্তু একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার যেমন সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করতে ইচ্ছুক নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন বর্তমানে একটি 'অপেক্ষা করো এবং দেখো' নীতি গ্রহণ করেছে। বেইজিং মনে করছে, এই সংঘাতের ফলে ইরান এখন আরও বেশি চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে বেইজিংয়ের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে। তবে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো বা সামরিক সহায়তা দেওয়া চীনের দীর্ঘদিনের 'অ-হস্তক্ষেপ' নীতির পরিপন্থী।
এছাড়া, চীনের প্রায় ৩,০০০ নাগরিককে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং হামলায় এক চীনা নাগরিকের মৃত্যু বেইজিংয়ের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপে এই হামলাকে 'জঙ্গল রাজত্ব' বা আইনের শাসনের অবক্ষয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চীন মূলত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান চাচ্ছে, কারণ একটি পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধ চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্পের জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বেইজিং এখন ইরানকে রাজনৈতিক সমর্থন দিলেও নিজেকে সরাসরি সংঘাত থেকে দূরে রেখে বিশ্বমঞ্চে একজন 'দায়িত্বশীল শক্তি' হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।
