আহমেদ হাসান সানি মূলত একজন সংগীতশিল্পী। ‘শহরের দুইটা গান’, ‘হয়তো আমরা’, ‘মানুষ কেন এ রকম’, ‘কেমনে কী’ গেয়ে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হয়েছে তাঁর প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সং ফ্রম দ্য সাউথ’। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ দিয়ে এবার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও তাঁর অভিষেক হচ্ছে। বছরের এটি প্রথম সিনেমা।
সিনেমাটির ব্যতিক্রমী নাম নিয়ে নির্মাতা বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বলি, এখানে রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ। বিষয়টা একধরনের ট্যাবুতে পরিণত হয়েছে। সেই ট্যাবুকে ভাঙতেই এই নাম দিয়েছি। নিষেধ নয়, রাজনৈতিক আলাপ আসলে জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘গল্পটার মধ্যে বিভিন্ন কথোপকথনের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ইতিহাস বলার চেষ্টা করেছি।’
সিনেমায় নূর নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। দেশে ফেরার পর একধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। ইমতিয়াজ বর্ষণ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই, আপামর জনসাধারণ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হোক। আমাদের বিশ্বাস, রাজনৈতিকভাবে সচেতনতা তৈরিতে সিনেমাটি ভূমিকা রাখবে।’
এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’তে আরও অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, তানভীর অপূর্ব, এ কে আজাদ সেতু, কেয়া আলম। প্রযোজনার পাশাপাশি সিনেমার গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন খালিদ মাহমুদ।
১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ (বর্তমান চেন্নাই) থেকে প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান লেডিস ম্যাগাজিন-এ প্রথম প্রকাশিত হয় ‘সুলতানা’স ড্রিম’। নিজের এই লেখাটি পরে সুলতানার স্বপ্ন নামে বাংলায়ও অনুবাদ করেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তারও ১০০ বছরের বেশি পরে ২০১২ সালে নয়াদিল্লির এক আর্ট গ্যালারিতে ‘সুলতানা’স ড্রিম’-এর একটি কপি ইসাবেল এর্গেরার নজরে পড়ে। তাৎক্ষণিক বইটি উল্টেপাল্টে স্প্যানিশ এই চলচ্চিত্রকারের মনে হয়েছিল, ‘এই গল্প নিয়ে কাজ করা দরকার। বিভিন্ন জায়গায় মানুষের কাছে এই গল্পের তাৎপর্য পৌঁছে দেওয়া দরকার।’
যার চূড়ান্ত পরিণতি অ্যানিমেটেড ছবি ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’ বা ‘সুলতানা’স ড্রিম’। ছবিতে দেখা যাবে, ভারতের আহমেদাবাদের একটি গ্রন্থাগারে তরুণ শিল্পী ইনেসের হাতে আসে বেগম রোকেয়া হোসেনের ‘সুলতানা’স ড্রিম’। এটা এমন এক গল্প, যেখানে নারীরাই জ্ঞানচর্চা করে, রাষ্ট্র পরিচালনা করে; আর পুরুষরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, ঘরের আড়ালে থাকে এবং গৃহস্থালির দায়িত্ব পালন করে। এই কাহিনিতে মুগ্ধ হয়ে ইনেস ভারতের নানা প্রান্তে বেরিয়ে পড়েন লেডিল্যান্ডের খোঁজে। চেষ্টা করেন বেগম রোকেয়া হোসেনের চিন্তা ও জীবনের চিহ্ন অনুসরণ করতে।