শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আগ্রাসনকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে ‘পারমাণবিক’ বিপর্যয় ঘটাতে চাইছে: রাশিয়া

আগ্রাসনকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে ‘পারমাণবিক’ বিপর্যয় ঘটাতে চাইছে: রাশিয়া

আগ্রাসনকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে ‘পারমাণবিক’ বিপর্যয় ঘটাতে চাইছে: রাশিয়া

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। বুধবার (২৫ মার্চ) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ধ্বংসাত্মক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। মস্কোর দাবি, গত মঙ্গলবার বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সচল ১ নম্বর ইউনিটের একেবারে গা-ঘেঁষে এই হামলা চালানো হয়, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি মহাপ্রলয়ঙ্করী পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।


রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছে, আগ্রাসনকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলে একটি বিশাল পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটাতে চাইছে। তারা তাদের নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত সাধারণ ইরানি নাগরিক এবং সেখানে অবস্থানরত রুশ বিশেষজ্ঞদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে। কেবল অলৌকিক কোনো ঘটনার কারণেই এখন পর্যন্ত বড় কোনো ট্র্যাজেডি ঘটেনি। বারবার বিদ্যুৎকেন্দ্রের খুব কাছাকাছি হামলা চালানোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্রেমলিন।

রাশিয়া মনে করিয়ে দিয়েছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আএইএ)-এর সেফগার্ড চুক্তির আওতাভুক্ত। তাই এই স্থাপনায় বা এর আশেপাশে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এ বিষয়ে আইএইএ এবং জাতিসংঘকে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার এবং অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা চালানো হবে না— এমন কোনো নিশ্চয়তা বা আশ্বাস এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। ফলে শঙ্কা কাটছে না বরং দিন দিন তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। 

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও পশ্চিম জেরুজালেমকে বুঝতে হবে— বুশেহরের ওপর একটি আঘাত মানেই অপূরণীয় মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়। এখনই সময় কাণ্ডজ্ঞানহীন এই আগ্রাসন বন্ধ করার।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান ইতিমধ্যে তার শীর্ষ নেতৃত্বকে হারিয়েছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে পরমাণু স্থাপনার আশেপাশে এই নতুন দফার হামলা পুরো সংঘাতকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বুশেহরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার তেজস্ক্রিয়তা কেবল ইরানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।