স্টাফ রিপোর্টারঃ শাহ আলমগীর হোসাইন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলাধীন ১২ নং বাসুদেব ইউনিয়ন বিভক্তি না করণ প্রসঙ্গে জড়ো হয়েছে এলাকার হাজার হাজার জনসাধারণ। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল -২০২৬ইং) বাসুদেব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে বাসুদেব ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক বিশাল প্রতিবাদ সভা। প্রতিবাদ সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু আরশাদ মাষ্টার, উদ্ভোধনী ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে শুরু করেন বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব জাহাঙ্গীর ভুইয়া নয়ন, সঞ্চালনায় ছিলেন সুমন মাহমুদ রাজু ও খোকন ভুইয়া। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শাহরিয়ার আলম সনি। উপস্থিত ছিলেন বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন ভুইয়া, সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আঃ রশীদ ভুট্টো, সদর উপজেলা বিএনপির জসিম উদ্দিন শিপন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল বাসির, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদর উপজেলার সহ সভাপতি আলহাজ্ব মহিউদ্দিন ভুইয়া মুক্তা, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সাংবাদিক সোহেল রানা, ইউনিয়ন বিএনপির কবির ভুইয়া, আসাদুজ্জামান রঞ্জু সাবেক চেয়ারম্যান , শাহিন মেম্বার, নিজামুদ্দিন মেম্বার, ইয়াসিন মেম্বার, রুস্তম মেম্বার, সোহরাব মেম্বার, আজিজ মেম্বার, মামুন মেম্বার, রেজাউল ভুইয়া, শাহ জামাল রানা, এছাড়াও উক্ত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন দল মত নির্বিশেষে সর্বদলীয় এলাকার বিভিন্ন নেতাকর্মীবৃন্ধ ও সর্ব শ্রেণির সাধারণ জনগন। এলাকাবাসীর বক্তব্যে বক্তারা বলেন, আমাদের অত্র ১২নং বাসুদেব ইউনিয়নটি দীর্ঘ প্রায় ২০০ বৎসর যাবৎ ঐতিহ্যবাহী বাসুদের ইউনিয়ন পরিষদ হিসাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় অতি সুপরিচিত। আমাদের বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদটি ১৬টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এবং উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ�আমাদের বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদটি ১৬টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এবং উক্ত ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে প্রায় ৩৬,০০০ (ছয়ত্রিশ হাজার) ভোটার অত্র ইউনিয়ন পরিষদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করিয়া আসিতেছে। আমাদের বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার একটি অতি প্রাচীন ও জনবহুল স্বনামধন্য ইউনিয়ন পরিষদ। ইদানিং আমরা পরস্পর জানিতে পারিয়াছি যে, একটি কুচক্রী মহল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক জনাব তারেক রহমান এর সহকারী সচিব আব্দুর রহমান সানির ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমদ ভুইয়া ও বাসুদেব ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম মোল্লার নেতৃত্বে জনগনের মতামত গ্রহন না করিয়াই উক্ত বাসুদেব ইউনিয়ন হতে (৬টি গ্রাম-চান্দি, কোড়াবাড়ি, কোড্ডা, শ্যামনগর, বরিশল, বৈষ্ণবপুর) বিভক্ত করিয়া বরিশল ইউনিয়ন নামে আরেকটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করার পায়তারা করিতেছে। যাহা সরকারী বিধি মোতাবেক সরজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে না করে নিয়মভঙ্গ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাতারাতি একটি প্রতিবেদন তৈরী করে। যাহার ফলে ইউনিয়নের সকল জনগন আজ উক্ত ইউনিয়ন বিভক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। ইউনিয়নটি তিতাস নদীর পশ্চিমে অবস্থিত। ভৌগলিক ও আর্থ সামাজিক কারনে এই ইউনিয়নের জনগন আমরা ১২নং বাসুদেব ইউনিয়নটি বিভক্তি করনে নারাজ। আজ বাসুদেব ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগন ঐক্যবদ্ধ। আমরা ১২নং বাসুদেব ইউনিয়ন বিভক্তি না করণে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক জনাব আবু সাইদ মহোদয় এর নিকট এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। কিন্তু আমরা এখনো কোনো ফলাফল পাচ্ছিনা। আমরা বাসুদেব ইউনিয়নবাসী আমরা আখাউড়া যেতে চাইনা। আমরা সদর উপজেলায় ছিলাম, আছি, থাকব ইনশাআল্লাহ। আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়ন নিয়ে যে ষড়যন্ত্র চলছে তা যদি আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে আমরা সাধারণ জনগন রাজপথে নামতে বাধ্য হব। সর্বশেষ আমাদের ইউনিয়নবাসীর প্রাণের দাবী আমরা ঐক্যবদ্ধ বাসুদেব ইউনিয়ন যেভাবে ছিলাম, বর্তমানে আছি, ভবিষ্যতে একইভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকব ইনশাআল্লাহ।