গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রাস্তা পাকাকরণ কাজের শুরুতেই অত্যন্ত নিম্নমানের খোয়া ও মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহারের অভিযোেগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ফলে নতুন নির্মিত এই রাস্তার স্থায়িত্ব ও টেকসই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, কাজ শেষ হওয়ার আগেই যদি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন এই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প- ৩ এর আওতায় বামনজল জিপিএস হতে কান্দি রাস্তার ৪০০মিটার পাকাকরণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সুন্দরগঞ্জ।
যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৬ টাকা।
কাজের দায়িত্ব পান সাগীর খান নামের এক ঠিকাদার। দহবন্দ ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির পাকাকরণের কাজ শুরু হয় ১০ এপ্রিল। কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদ মো. মাজেদুর রহমান। রাস্তা খোড়াখুড়ির পর এখন চলছে খোয়া বিছানোর কাজ।
তবে কাজের শুরু থেকেই ব্যবহৃত খোয়ার ও বালুর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত মানের খোয়ার পরিবর্তে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খোয়ার আকার, গুণগত মান ও বালু প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী নয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “রাস্তার কাজে যে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো হাতে চাপ দিলেই ভেঙে যাচ্ছে। এমনকি খোয়ার আকার বড় এবং কোনো কোনো ইট দুই টুকরা করে ফেলা হচ্ছে। আর নতুন রাস্তা পাকাকরণের শুরুতেই যদি এমন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। তাদের অভিযোগ, দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি সঠিকভাবে তদারকি করতেন তাহলে কাজের মান এতো নিম্নমানের হওয়ার কথা নয়।"
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার বিভিন্ন অংশে ফেলা ইটের খোয়ার মধ্যে অধিকাংশ খোয়াই অত্যন্ত নিম্নমানের। যা দেখতে অনেকটা ফ্যাকাশে রঙের।
খোয়ার সাইজও আকারে বড় এবং অনেক ইট দুই টুকরা করে ফেলা হয়েছে। ফলে খোয়া বিছানোর পর সঠিকভাবে কম্প্যাকশন হবে না বলে ধারণা স্থানীয়দের। এসময় ঠিকাদারের প্রতিনিধি মো. তারেককে কাজ বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে কাজ করার দাবি জানান তারা।
ঠিকাদারের প্রতিনিধি মো. তারেক বলেন, "এক নম্বর ইট দিয়ে কাজ করলে ফিনিশিং ভালো হবেনা এবং এক মাসেও কাজ শেষ করা সম্ভব হবেনা। তাই মিশেল আছে। ফেলানো বড় খোয়াগুলো আবার ভাঙা হবে। তবে নিচের ফেলানো বড় খোয়াগুলোর কী হবে তার কোনো জবাব দেননি তিনি।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:শাহিন মিয়া
