আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে প্রথম আলো ধারাবাহিকভাবে তৎকালীন যুবনেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এটি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক ধরনের কঠোর মিডিয়া ট্রায়াল হিসেবে পরিচিত।গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসংখ্য নিউজ প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। এ নিয়ে সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশ করেই ক্ষান্ত থাকেনি, তারা কার্টুন-কলাম ছাপিয়ে তারেক রহমানকে হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় প্রকাশের পর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছিলেন, ‘বিএনপি সরকার বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তার এই ঘটনার কোনো তদন্ত করতে দেয়নি। বিচার তো দূরের কথা বরং তারা এই ঘটনাকে উল্টোমুখে প্রচার চালিয়ে এসব দায় আওয়ামী লীগের ওপরে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।শুধু আওয়ামী লীগ না, একই সঙ্গে আমাদের প্রতিবেশী ভারতকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তারা এতসব মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তের চেষ্টা করেছিল, যেটা একটা অদ্ভুত গল্প-কাহিনীকে ছাড়িয়ে যায়।’
তিনি আরো বলেছিলেন, ‘একটা দেশের সরকার, সে যদি একটা এরকম ভয়ংকর ঘটনা যেখানে দেশের প্রধান দলের নেত্রী (শেখ হাসিনা) জীবননাশের শঙ্কা, ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার চেষ্টা ছিল—সেটাকে যদি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, ঘটনাকে যদি উল্টোমুকে প্রভাবিত করা হয়, সেটার যদি সুষ্ঠু তদন্ত না হয়, সেটা যদি বিচারের কোনো চেষ্টা না হয় তার চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক, দুঃখজনক কোনো ঘটনা আর ঘটতে পারে না। এই দায় বিএনপিকে বহন করতে হবে।এটা একটা কলঙ্ক। এটা একটা অন্যায়। এটা একটা ভয়ংকর রকমের শাসকগোষ্ঠীর বা শাসক শ্রেণি বা সরকারের জন্য কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
মতিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার ১৫ বছর পর এটার বিচার হয়েছে, ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আরো অনেককে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এটার বিচার হওয়া দরকার ছিল, সেটা হয়েছে।সেটাতে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করি। আর যদি তারপরও কারো কোনো বক্তব্য থেকে থাকে, তারা হাইকোর্টে যাবেন, তারা আপিল কোর্টে যাবেন, তারা তাদের আইনি যুক্তিতর্ক করবেন। তবে সন্তুষ্টির বিষয় এই—এরকম একটা ঘটনা, ভয়ংকর ঘটনার বিচার হওয়া।’
