জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে স্বস্তির খোঁজে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন মৌসুমি ফল তালের শাঁসের দিকে। প্রচণ্ড গরমের কারণে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ বছর তালের শাঁসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে গ্রামাঞ্চল থেকে তাল সংগ্রহ করে সড়কের পাশে ও অলিগলিতে জমজমাটভাবে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীপুর উপজেলার মাওনা, বরমী, শ্রীপুর, জৈনা বাজার ও এমসি বাজারসহ বিভিন্ন চৌরাস্তা ও মোড়ে দেদার বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।
মাওনা গ্রামের তালের শাঁস বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম জানান, এবার প্রচণ্ড গরমের কারণে বিক্রি অনেক বেড়েছে। প্রতিটি শাঁস গড়ে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে একসঙ্গে বেশি নিলে কিছুটা কম দামে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি তাল থেকে সাধারণত তিন থেকে চারটি শাঁস পাওয়া যায়। তিনি জানান, দিনে প্রায় ৪০০টির মতো শাঁস বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।
ক্রেতারাও মৌসুমি এই ফল কিনতে ভিড় করছেন। তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের শরিফ জানান, “ছেলেমেয়েদের আবদার মেটাতে তালের শাঁস কিনতে হয়। দাম তুলনামূলক কম এবং মৌসুমে অল্প সময়ই পাওয়া যায়।”
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী রতন জানান, হাটবাজারে তালের শাঁসের বিক্রি এবার বেশ ভালো হচ্ছে। গরম যত বাড়ছে, চাহিদাও ততই বাড়ছে।
গাজীপুরে তালের ব্যাপক চাষ হলেও এর আদি নিবাস আফ্রিকা। তালগাছ ভূমিক্ষয় রোধে সহায়ক হওয়ায় দেশে এর গুরুত্ব রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ডাবের পানির মতোই তালের শাঁস শরীরের জন্য উপকারী।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার তানিম জানান, তালের শাঁসে জলীয় অংশ বেশি থাকায় এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং ঘামের মাধ্যমে হারানো পানি পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিজন মালাকার বলেন, গরমে তালের শাঁস শরীরকে স্বস্তি দেয় এবং হজমে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, এক বাবা তার দুই মেয়ের আবদার মেটাতে তালের শাঁস কিনছেন। তিনি জাবের স্পিনিং কারখানায় কর্মরত আমিনুল ইসলাম।
সব মিলিয়ে জ্যৈষ্ঠের তীব্র গরমে শ্রীপুরজুড়ে এখন স্বস্তির নাম হয়ে উঠেছে তালের শাঁস একটি মৌসুমি ফলকে ঘিরেই জমে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যস্ত বাজার।
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
