শনিবার, আগস্ট ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় পাগলা মসজিদ: ৬ মাস পর খোলা হলো দানবাক্স, মিলল রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা

রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় পাগলা মসজিদ: ৬ মাস পর খোলা হলো দানবাক্স, মিলল রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা

রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় পাগলা মসজিদ: ৬ মাস পর খোলা হলো দানবাক্স, মিলল রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স দীর্ঘ ছয় মাস পর আজ খোলা হয়েছে। প্রতিবার দানবাক্স খোলার পর টাকার অঙ্কে আগের সব রেকর্ড ভেঙে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবারের প্রাপ্তি অতীতের সব সংগ্রহকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
​আজ শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর এই দানবাক্সগুলো খোলা হলেও, এবার দীর্ঘ ছয় মাস পর সিন্দুকগুলো খোলা হয়েছে। এবার মোট ১৩টি দানবাক্স থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে টাকা গণনার কাজ। দানবাক্স খোলা এবং গণনা কার্যক্রম সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
 

​এর আগে সবশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। সে সময় ১৩টি সিন্দুকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল, যা গণনা শেষে টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়া সেবারও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা-রূপার অলংকারসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী পাওয়া গিয়েছিল। এবার বস্তার সংখ্যা আরও ৮টি বেশি হওয়ায় পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে এক নতুন ইতিহাস তৈরি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

​সর্বজনীন আস্থার প্রতীক পাগলা মসজিদ: কিশোরগঞ্জ সদরের নরসুন্দা নদীর তীরে তিন একর ৮৮ শতাংশ জায়গার ওপর অবস্থিত আড়াইশ বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ সর্বস্তরের মানুষের কাছে এক পরম পবিত্র ও সার্বজনীন ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। প্রচলিত রয়েছে, এক পাগলবেশী আধ্যাত্মিক সাধক নরসুন্দা নদীর বুকে মাদুরে ভেসে এসে এই স্থানে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর সমাধির পাশে নির্মিত এই মসজিদটিই কালক্রমে 'পাগলা মসজিদ' নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে এটি ওয়াকফ স্টেট হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
 

​সব ধর্মের মানুষের মাঝে এক গভীর বিশ্বাস রয়েছে যে, একনিষ্ঠ নিয়তে এই মসজিদে দান করলে মনের বাসনা পূরণ হয়, রোগমুক্তি ঘটে এবং বিভিন্ন জটিল সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। আর এই বিশ্বাস থেকেই প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারো মানুষ এখানে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, এমনকি হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুসহ নানা সামগ্রী মানত হিসেবে দান করে থাকেন। দান থেকে প্রাপ্ত এই বিপুল অর্থ সমাজের অসহায়, দুস্থ, চিকিৎসা ও শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এবং মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়।প্রতিবেদক মো: রেজুয়ানুল হক পাকুন্দিয়া থেকে ।