রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হাতিয়ায় ভরা মৌসুমেও মেঘনায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা নেই, সংকটে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা

হাতিয়ায় ভরা মৌসুমেও মেঘনায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা নেই, সংকটে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা

হাতিয়ায় ভরা মৌসুমেও মেঘনায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা নেই, সংকটে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা

বর্ষার ভরা মৌসুম এলেই মেঘনা নদীজুড়ে ইলিশের প্রাচুর্যের প্রত্যাশা করেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। সাধারণত এ সময় নদীতে জাল ফেললেই ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ, প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে নদীর ঘাট ও মাছের আড়ত। তবে চলতি মৌসুমে নোয়াখালীর হাতিয়া উপকূলে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।


আশানুরূপ ইলিশ না মেলায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে জেলে পরিবারগুলোর।


শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার সূর্যমুখী ঘাট, কাদিরবাজার ঘাট, পাইতান ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট, নলচিরা ঘাট, চরচেঙ্গা ঘাট, মোহাম্মদপুর ঘাট ও তমরউদ্দিন ঘাটসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের জেলেপল্লি ঘুরে এমন পরিস্থিতির চিত্র দেখা যায়।


স্থানীয় জেলেরা জানান, প্রতিদিন গভীর রাত থেকে নদীতে মাছ ধরতে গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিলছে না প্রত্যাশিত ইলিশ। অনেকেই সামান্য কিছু মাছ নিয়ে ফিরছেন, আবার কেউ কেউ প্রায় খালি হাতেই ঘাটে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে মাছ বিক্রির আয় দিয়ে নৌকার জ্বালানি, বরফ, জাল রক্ষণাবেক্ষণ ও শ্রমিকের খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ঋণ ও ধারদেনার বোঝা আরও বাড়ছে।

সূর্যমুখী ঘাটের জেলে আলা উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন নদীতে নামছি, কিন্তু আগের মতো মাছ মিলছে না। কয়েকবার জাল ফেলেও তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। সংসারের খরচ চালানো এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে।


চেয়ারম্যান ঘাটের জেলে মো. সফি আলম বলেন, তেল, বরফ আর খাদ্যসামগ্রীর দাম বেড়েছে। মাছ না পেলে খরচই ওঠে না। পরিবার নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।


ইলিশের সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাছের আড়ত ও ব্যবসার ওপরও। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক আড়তে আগের মতো কর্মব্যস্ততা নেই। এতে ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন।


কাদিরবাজার ঘাটের  ব্যবসায়ী আব্দুস শহীদ  বলেন, "ভরা মৌসুমে সাধারণত ঘাটে ইলিশের স্তূপ পড়ে থাকে। এবার সেই চিত্র নেই। মাছ কম আসায় ব্যবসা একেবারে মন্দা, প্রতিদিনই লোসান গুনতে হচ্ছে।


হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়জুর রহমান বলেন, নদীতে স্রোত কমে যাওয়ার কারণে পলি পড়ে গভীরতা কমে যাচ্ছে। এ কারণে ইলিশ অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। তবে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম। আশা করছি বৃষ্টি বাড়লেই ইলিশের সংকট দূর হবে। 

হানিফ উদ্দিন সাকিব

হাতিয়া উপজেলা প্রতিনিধি