মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শিল্পীদের সংকট কাটানোই আমার প্রথম কাজ: শিবা সানু

শিল্পীদের সংকট কাটানোই আমার প্রথম কাজ: শিবা সানু

শিল্পীদের সংকট কাটানোই আমার প্রথম কাজ: শিবা সানু

অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে শিল্পী সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা শিবা সানু। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন এই তারকা। বিজয়ী হওয়ার পর রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেছেন শিবা সানু। এ আলাপচারিতার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো—

রাইজিংবিডি: নায়ক আলমগীর, নায়করাজ রাজ্জাক একসময় যে চেয়ারে বসতেন, এবার সেই চেয়ারে আপনি—অনুভূতিটা কেমন?

শিবা সানু: অনুভূতিটা আপনি বলার মধ্যেই তো বুঝতে পারছেন। আলমগীর সাহেব বসতেন, রাজ্জাক সাহেব বসতেন, খলিলুল্লাহ খান স্যার বসেছেন, আমাদের মাহমুদ কুলি ভাই বসেছেন, আমাদের কাঞ্চন ভাই বসেছেন, আমাদের তিনবারের সফল সভাপতি মিশা ভাই বসেছেন। সেখানে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে জয়লাভ করাটা অবশ্যই আনন্দের, যদিও যেকোনো জয়ই আনন্দের। তবে এই জায়গার জয় শুধু আনন্দ নয়, দায়িত্বও অনেক বেশি। তাদের অনুসরণ করে যদি কাজ করতে হয়, তাহলে অনেক কঠিন দায়িত্ব, সততা এবং গতিশীলতা নিয়ে কাজ করতে হবে। তাই আনন্দের চেয়ে চাপটাই বেশি অনুভব করছি।

রাইজিংবিডি: নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে আপনার প্রথম পদক্ষেপ কী হবে?

শিবা সানু: দেখেন, এটা একটি সেবামূলক, অরাজনৈতিক ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত একটি সংগঠন। এখানে নির্বাচিত কমিটির মূল দায়িত্ব হলো সদস্যদের সুবিধা-অসুবিধার কথা জানা এবং সেগুলোর সমাধানে কাজ করা। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রের বাজারে মন্দা চলছে। আমাদের অনেক শিল্পী কর্মহীন। কর্মহীন মানুষের যে সংকট, সেই সংকট লাঘবে কাজ করাটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে ১৮-২০ কোটি মানুষ। কিন্তু আমাদের শিল্পী সংখ্যা ৬০৪ জন (এবারের হিসাব অনুযায়ী)। সহযোগী সদস্য ধরলেও প্রায় এক হাজার। সংখ্যায় কম হলেও আমাদের পরিচিতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, দেশের বাইরেও। আমরা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করি। অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষকে হাসাই, কাঁদাই, বিনোদন দিই। অথচ মানুষকে আনন্দ দেওয়া শিল্পীরাই যখন কষ্টে থাকেন, তখন বিষয়টি কষ্টের।

সরকার যেমন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছে, তেমনই আমরা চাই বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রশিল্পের সংকট বিবেচনায় শিল্পীদের জন্যও একটি ফিল্ম আর্টিস্ট ফ্যাসিলিটিজ কার্ড চালু করা হোক। তাহলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে পাওয়া যাবে। এক হাজার মানুষের জন্য এমন একটি উদ্যোগ সরকারের জন্য খুব বড় বোঝা হবে না। এই কাজ যদি শুরু করতে পারি, তাহলে ধীরে ধীরে অন্য কাজগুলোও এগিয়ে নেওয়া যাবে।

চলচ্চিত্রের সার্বিক উন্নয়নের কাজ শিল্পী সমিতির একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের মাদার অর্গানাইজেশন প্রযোজক সমিতি, সামনে তাদের নির্বাচন। যোগ্য নেতৃত্ব এলে, পরিচালক সমিতি, অন্যান্য সমিতি, এফডিসি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চলচ্চিত্রের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো সমাধানে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেখানে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিও অংশ নেবে। তবে শিল্পীদের বর্তমান সংকট দূর করাই হবে আমার প্রথম পদক্ষেপ। সেদিন আমাদের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের বলেছি, ‘আমাদের শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টে কোনো তহবিল নেই। যদি সেটি চালু করা যায়, তাহলে শিল্পীদের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় কিছুটা সক্রিয় হওয়া যাবে।’

এছাড়া, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান ও সংস্কৃতিসেবীদের অনুদান দেওয়ার একটি কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য হয়েছেন আমাদের জাসাসের সম্মানিত আহ্বায়ক ও চলচ্চিত্র অভিনেতা হেলাল খান। তিনি আমার খুব কাছের বন্ধু এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে রাজনৈতিক আন্দোলনে কাজ করেছি। ইথুন বাবুও আছেন। তাদের কাছেও মৌখিকভাবে বিষয়টি বলেছি। খুব শিগগির লিখিত প্রস্তাব নিয়ে যাব, যাতে সুবিধাবঞ্চিত শিল্পীদের এই কঠিন সময়ে কিছুটা সহযোগিতা করা যায়।