মানুষ মানুষের জন্য—এই কথাটিকে শুধু বিশ্বাসে নয়, বরং নিজের কর্মের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন ইতালি প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক পরিমল দেবনাথ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নীরবে ও নিঃস্বার্থভাবে সমাজসেবা এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও দেশের মানুষের কথা, বিশেষ করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা ভুলে যাননি তিনি।
প্রবাসে বসবাস করলেও নিজের শিকড়ের প্রতি তাঁর রয়েছে গভীর টান ও দায়বদ্ধতা। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি দেশের বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের চার জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর সহযোগিতার কথা স্থানীয়ভাবে প্রশংসার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও পরিচালনায় তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। মন্দির নির্মাণ ও সংস্কার, বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে আর্থিক অনুদান প্রদান, কীর্তনীদের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন মানবিক কাজে সহায়তা—বছরের পর বছর ধরে এসব কর্মকাণ্ডে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করে আসছেন।
শুধু আর্থিক সহযোগিতার মধ্যেই তাঁর মানবসেবার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন উপাসনালয়ে শুধু আর্থিক সহযোগিতার মধ্যেই তাঁর মানবসেবার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বছর বিভিন্ন উপাসনালয়ে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে গেঞ্জি বিতরণসহ প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করেছেন।। তাঁর এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিকতার বন্ধন আরও শক্তিশালী করা।
অসহায় মানুষের পাশে নীরবে
সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি পরিমল দেবনাথের রয়েছে বিশেষ আন্তরিকতা। কোনো মানুষ বিপদে পড়লে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনের মুখোমুখি হলে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করেন।
বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ধর্মীয় উপাসনালয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন তিনি। তাঁর এসব উদ্যোগের সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হলো—প্রচার কিংবা ব্যক্তিগত প্রতিদানের প্রত্যাশা না করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
তাঁর কাছে মানবসেবা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি জীবনের একটি দায়িত্ব। মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সমাজের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোই যেন তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রধান লক্ষ্য।
‘দিপ্তা ফাউন্ডেশন’—মানবকল্যাণে আরেকটি উদ্যোগ
মানুষের কল্যাণে তাঁর সমাজসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তিনি তাঁর মেয়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘দিপ্তা ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।
একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত উদ্যোগ যখন একটি সংগঠিত সামাজিক উদ্যোগে রূপ নেয়, তখন তার সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়। ‘দিপ্তা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে পরিমল দেবনাথের মানবিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে স্থানীয়দের।
পরিবারের মধ্যেও সমাজসেবার চর্চা
শুধু পরিমল দেবনাথই নন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও সমাজের জন্য কিছু করার মানসিকতা রয়েছে। তাঁর আপন কাকা নিজ গ্রামের মানুষের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের জন্য জায়গা দান করেছেন। সেই জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এটি প্রমাণ করে, সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তাঁদের পরিবারের মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে লালিত হয়ে আসছে। শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে পরিবারের সদস্যদের এই অবদান স্থানীয় মানুষের কাছেও প্রশংসিত।
প্রবাসী হয়েও শিকড়ের টানে মানুষের পাশে
বর্তমান সময়ে অনেকেই জীবিকার প্রয়োজনে দেশ ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি জমান। কিন্তু প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা ও দূরত্ব অনেক সময় মানুষকে নিজের এলাকার মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তবে পরিমল দেবনাথ যেন এর ব্যতিক্রম।
ইতালিতে বসবাস করেও তিনি নিজের জন্মভূমি, এলাকার মানুষ এবং সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট রেখেছেন। দেশের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতা করে তিনি প্রবাসীদের জন্যও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মানবসেবাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়
পরিমল দেবনাথের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন মানবিক মানুষ। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজের কল্যাণে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখাকে তিনি জীবনের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
তাঁর এই কর্মকাণ্ড শুধু কিছু মানুষ বা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উপকার করছে না; বরং সমাজের অন্যদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করছে। একজন মানুষের একটি ভালো উদ্যোগ যখন অন্যদের অনুপ্রাণিত করে, তখন সেই উদ্যোগের প্রভাব সমাজে আরও বহুগুণে ছড়িয়ে পড়ে।
নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। পরিমল দেবনাথের মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক, অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ী দৃষ্টান্ত।
প্রবাসের মাটিতে থেকেও দেশের মানুষের জন্য তাঁর এই ভালোবাসা ও সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকুক—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের। তাঁর হাত ধরে আরও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটুক, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের পথ আরও প্রসারিত হোক—এই প্রত্যাশাই সবার।