ফকির আলমগীর ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী। গণসংগীত ও দেশীয় পপ সংগীতে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। তিনি ঋষিজ
শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৯ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হন। আজ দেশবরেণ্য গণসঙ্গীতশিল্পী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ফকির আলমগীরের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা স্মরণ করছি এক সাহসী কণ্ঠসৈনিককে—যিনি গানকে করেছেন অস্ত্র, প্রতিবাদকে করেছেন সুরময়।
ফকির আলমগীর জন্মেছিলেন ১৯৫০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি—ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় দিনে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা গ্রামে। বাবা মোঃ হাচেন উদ্দিন ফকির, মা বেগম হাবিবুন্নেছা। শৈশব, কৈশোর কেটেছে সংগ্রামে। কালামৃধা গোবিন্দ হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক, এরপর জগন্নাথ কলেজে স্নাতক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ (সাংবাদিকতা)।
ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হয়ে রাজনীতির মাঠে নামেন। সেই সূত্রে ক্রমে যুক্ত হন গণসংগীত আন্দোলনের সঙ্গে।
১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে, ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে, এবং পরে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সকল ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাঁর গান ছিল সংগ্রামী জনতার প্রাণ।
তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক।
১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী।
তাঁর গাওয়া কালজয়ী গানগুলো আজও প্রেরণার উৎস:
* ও সখিনা গেছস কিনা ভুলিয়া মোরে
* নাম তার ছিল জন হেনরি
* যাত্রা শুরু হলো
* নইলে এখনি বিদায় বলো
* আমি গাই যে গান, এই মাটির জন্য
শুধু কণ্ঠসৈনিকই নন, তিনি ছিলেন এক গভীর মননের লেখকও। তাঁর রচিত বইসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
চেনা চায়না (১৯৮৪), মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজয়ের গান, গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান, অমর কথা, যারা আছে হৃদয়পটে, স্মৃতি আলাপনে মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি। মোট ৯টি গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন।
২৩ জুলাই ২০২১, ৭১ বছর বয়সে তিনি পরপারে পাড়ি জমান।
কিন্তু রেখে যান নিজের সৃষ্টিতে অবিনাশী এক জীবন। অন্যায়, অবিচার আর শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ ছিল প্রতিবাদের বজ্রধ্বনি। ছিলেন শেকড়ের শিল্পী—মানুষ ও মানবতার নিঃস্বার্থ বন্ধু।
আজকের দিনে, তাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—একজন শিল্পীর আসল পরিচয় তাঁর দায়বদ্ধতা, তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ -ফকির আলমগীর
আপনার গান থাকবে আমাদের অন্তরে।
আপনার কণ্ঠ থাকবে প্রতিটি প্রতিবাদে।
আপনাকে শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই এই মহান কণ্ঠসৈনিকের প্রতি।