মোঃ আরিফুল হক সাহিন
পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর পোরশায় রাতে ঘুমানোর সময় বিষধর সাপের কামড়ে আবির ইসলাম রিয়ন (১২) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের মিসকিনপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবির ওই গ্রামের মো. রাসেল হোসেনের ছেলে এবং মিসকিনপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনার বিবরণ:
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল আবির। রাত আড়াইটার দিকে একটি বিষধর ‘চিতাবোরা’ সাপ তাকে কামড় দেয়। যন্ত্রণায় আবির জেগে উঠলে পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পান।
তবে সাপে কাটার পর তাত্ক্ষণিক হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে তাকে স্থানীয় এক ওঝা বা কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঝাড়ফুঁকে সময় পার করায় তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আবিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকায় শোকের মাতম ও সচেতনতার দাবি:
আবিরের অকাল মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছালে তার সহপাঠী, শিক্ষক ও গ্রামবাসীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। স্কুলের শিক্ষকরা জানান, আবির অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ও মেধাবী ছাত্র ছিল। সন্তানকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা এখন দিশেহারা।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো সাপে কাটলে ওঝা-কবিরাজের কাছে যাওয়ার কুসংস্কার রয়ে গেছে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে না নিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা করানোর কারণেই মূলত আবিরের প্রাণ বাঁচাতে দেরি হয়ে যায়। বিষধর সাপে কাটলে ওঝার কাছে না গিয়ে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে ওয়ান-স্টপ অ্যান্টিভেনম চিকিৎসার জন্য রোগীদের নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।