মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ স্বর্ণযুগের রোমান্টিক নায়ক আজিমের শুভ জন্মদিন

আজ স্বর্ণযুগের রোমান্টিক নায়ক আজিমের শুভ জন্মদিন

আজ স্বর্ণযুগের রোমান্টিক নায়ক আজিমের শুভ জন্মদিন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রথম যুগের সুদর্শন, রোমান্টিক এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে এক বিশিষ্ট নাম আজিম।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে আজও অমলিন যাঁর উপস্থিতি।


আজিম নামে খ্যাত নূরুল আজিম খালেদ রউফ জন্মগ্রহণ করেন সিলেটের হবিগঞ্জ জেলায়, ১৯৩৭ সালের ২৩ জুলাই। পৈত্রিক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে। বাবার পেশা ছিল মুন্সেফি, ফলে আজিমের শৈশব-কৈশোর কেটেছে দেশের নানা প্রান্তে। পরে পরিবার পুরান ঢাকার ভগবতী ব্যানার্জি রোডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের শুরুটা ছিল একেবারেই আকস্মিক।


১৯৫৯ সালে ‘রাজধানীর বুকে’ ছবির শুটিং দেখতে গিয়েই অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান বন্ধুবর সুরকার রবিন ঘোষের মাধ্যমে। ছবিতে তাঁর ছিল একটি সংলাপবিহীন ছোট চরিত্র। এরপর ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করতে থাকেন।
১৯৬২ সালে এতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের ভূমিকায় নজর কাড়েন। একই বছরে তিনি নায়ক হিসেবে তিনটি ছবিতে (পয়সে, মেঘ ভাঙ্গা রোদ, বেওয়াকুফ) চুক্তিবদ্ধ হন।
'পয়সে' ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন নায়িকা শবনম।


তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক ছিল ১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র 'মালা'। এই ছবির মাধ্যমে আজিম নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।
আজিম অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম –
ডাকবাবু, আমির সওদাগর, ভেলুয়া সুন্দরী, মধুমালা, স্বর্ণকমল, সাইফুল মুলক বদিউজ্জামান, রাখাল বন্ধু প্রভৃতি।
‘ডাকবাবু’ ছবিতে নায়িকা ছিলেন সুজাতা, যাঁর সঙ্গে সেই ছবির শুটিং চলাকালেই গড়ে ওঠে মানসিক সখ্যতা। পরে সেই সম্পর্ক পরিণয় লাভ করে ১৯৬৭ সালের ৩০ জুন। তাঁদের একমাত্র পুত্রসন্তান ফয়সাল আজিম।


শুধু অভিনয়েই নয়, আজিমের সাফল্য ছিল প্রযোজনা ও পরিচালনায়ও।
* ১৯৬৭ সালে ‘চেনা অচেনা’ নামে একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন (নায়িকা: সুজাতা)।
* পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ১৯৭৪ সালে ‘টাকার খেলা’ ছবির মাধ্যমে।
* ১৯৭৬ সালে নির্মাণ করেন ব্যবসা সফল ছবি ‘প্রতিনিধি’।
* এরপর ‘জীবন মরণ’ ও ‘গাদ্দার’ নির্মাণ করেন।
* চরিত্রাভিনেতা হিসেবে সফলতা পান ‘দোস্ত দুশমন’ ও ‘লাভ ইন সিমলা’-তে।
আজিম নিজ জেলাতে একটি সিনেমা হলও নির্মাণ করেছিলেন।


চলচ্চিত্র অঙ্গনে বহু শিল্পীকে গড়তে সহযোগিতা করেছেন অকাতরে। পরোপকারী, সজ্জন ও শিল্পীমনস্ক এই মানুষটি সহকর্মীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা কুড়িয়েছেন আমৃত্যু।
২৬ মার্চ ২০০৩ – স্বাধীনতা দিবসের এই পবিত্র দিনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ঢালিউডের একসময়ের রোমান্টিক কিংবদন্তি নায়ক আজিম। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
আজ তাঁর জন্মদিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে, যিনি শুধু রূপালী পর্দার নায়ক ছিলেন না — ছিলেন আমাদের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।