ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় মারা গেছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে।
অমিয়রঞ্জনের পুত্র শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজকের দিনটাতেই বাবাকে চলে যেতে হলো। হিপ বোন ভাঙার পরে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল। সেরেও উঠছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাবাকে বাড়ি নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এই বয়সে যা হয় আর কী! মারাত্মক সংক্রমণ হয়েছিল। তাই দিন চারেক আগে আবার এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করাতে হয়। কিন্তু পরিস্থিতি মোটেই অনুকূলে ছিল না। একরকম ঘোরের মধ্যেই ছিলেন। আজ দুপুর আড়াটায় সব শেষ হয়ে গেল।”
১৯২৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন সংগীতসাধক অমিয়রঞ্জন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সুরের সঙ্গ ছাড়েননি। কিছুদিন আগেও মঞ্চে পারফর্ম করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের তালিম দিয়েছেন তিনি। শতবর্ষে পদার্পণ করার বিশেষ দিনেও মঞ্চে একটানা ৪০ মিনিট ‘বেহাগ’ রাগ পরিবেশন করে সংগীতপ্রেমীদের মাঝে মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলেন।
প্রথাগত শাস্ত্রীয় সংগীত চর্চার পাশাপাশি সংগীতের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন অমিয়রঞ্জন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ বছর অধ্যাপনার মাধ্যমে বহু গুণী ছাত্রছাত্রী তৈরি করেছেন। তার প্রাপ্তির ঝুলিতেও জমা পড়েছে অজস্র সম্মাননা।
অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় তার পিতা সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুপুর ঘরানার দীর্ঘ পাঠ গ্রহণ করেছিলেন। এই ঘরানা তার পরিচিতি গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। তবে নিজেকে নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখেননি এই শিল্পী।