আজ জন্মদিন সেই কিংবদন্তির, যিনি শুধুমাত্র একজন বডিবিল্ডার নন, বরং হয়েছেন সফল অভিনেতা, উদ্যোক্তা এবং রাজনৈতিক নেতা — তিনি আর্নল্ড অ্যালয়িস শোয়ার্জনেগার।
শোয়ার্জনেগার জন্মগ্রহণ করেন অস্ট্রিয়ার এক ছোট গ্রাম থাল-এ। তার পিতা গুস্তাভ শোয়ার্জনেগার ছিলেন স্থানীয় পুলিশের প্রধান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান সেনাবাহিনীর সৈনিক। পরিবার ছিল রোমান ক্যাথলিক।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে ভারোত্তোলনে আগ্রহ জন্মায় তার। ১৯৬৫ সালে অস্ট্রীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে জুনিয়র মিস্টার ইউরোপ খেতাব জেতেন। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে সেনাবাহিনীর অনুমতি না নেওয়ায় তাকে এক সপ্তাহ জেলও খাটতে হয়!
পরবর্তীতে লন্ডনের কোচ চার্লস বেনেটের সহায়তায় তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ নেন এবং ইংরেজি শিখে ফেলেন।
২২ বছর বয়সে জেতেন মিস্টার ইউনিভার্স খেতাব — যা এখনও সবচেয়ে কম বয়সে এই খেতাব জয়ের রেকর্ড।
সাতবার জিতেছেন মিস্টার অলিম্পিয়া — বডিবিল্ডিং দুনিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ খেতাব।
তিনি শরীরচর্চা নিয়ে একাধিক বই ও নিবন্ধ লিখে গেছেন, যা এখনও অনুপ্রেরণা দেয় নতুন প্রজন্মকে।
হলিউড ক্যারিয়ার
তার এক্সন-চরিত্রগুলো তাকে বিশ্বজুড়ে আইকনিক করে তোলে।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র:
The Terminator, Predator, Conan the Barbarian, Total Recall, Commando
২০০৩ সালে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচিত হন, প্রতিস্থাপন করেন গ্রে ডেভিসকে।
২০০৬ সালে পুনরায় গভর্নর নির্বাচিত হন এবং ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ফিল অ্যাঞ্জেলিডেসকে পরাজিত করেন।
গভর্নর হিসেবে শপথ গ্রহণ: ২৩ নভেম্বর, ২০০৩
চলচ্চিত্র ও রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সফল ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবীও। শিশুস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় বহু উদ্যোগে যুক্ত আছেন।
আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার-এর জীবন এক অনন্য অনুপ্রেরণা — সীমাবদ্ধতা থেকে উঠে এসে কীভাবে আত্মপ্রত্যয় ও কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বমঞ্চে স্থান করে নিতে হয়, তার জ্বলন্ত উদাহরণ তিনি।
এই বিশেষ দিনে তাকে জানাই শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও জন্মদিনের অসংখ্য শুভেচ্ছা!