১৯৭৫ সালের এই দিনে নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তবে বেড়ে উঠেছেন পাবনায়। তাঁর বাবা কামাল আহমেদ এবং মা দিলারা ডলি। পরিবারে আদরের ডাকনাম ছিল ‘জল’।
ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে এইচএসসি ও পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করেন তাজিন আহমেদ।
তাজিন আহমেদের অভিনয়যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকের মাধ্যমে, যা পরিচালনা করেন শেখ নিয়ামত আলী এবং রচনা করেছিলেন দিলারা ডলি। তার আগে ১৯৯১ সালেই উপস্থাপক হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেছিলেন বিটিভির ‘চেতনা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
বিটিভিতে প্রচারিত ‘আঁধারে ধবল দৃপ্তি’ নাটকে তাঁর অভিনয় দারুণ সাড়া ফেলেছিল। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত জনপ্রিয় নাটক ‘নীলচুড়ি’-তে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে দাগ কেটে আছে।
১৯৯৭ সালে ‘থিয়েটার আরামবাগ’ দিয়ে তার মঞ্চে পদার্পণ। এরপর ‘নাট্যজন’ ও ‘আরণ্যক নাট্যদল’-এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং শেষ মঞ্চনাটক ছিল ‘ময়ূর সিংহাসন’।
অভিনয়ের পাশাপাশি নাট্যলেখক হিসেবেও তার ছিল অসামান্য অবদান। তাঁর লেখা ও পরিচালনায় নির্মিত নাটক ‘যাতক’ ও ‘যোগফল’ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
‘বৃদ্ধাশ্রম’, ‘অনুর একদিন’, ‘এক আকাশের তারা’, ‘হুম’, ‘সম্পর্ক’ ইত্যাদি।
তাজিন ছিলেন জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক। এনটিভির ‘টিফিনের ফাঁকে’ অনুষ্ঠানটি তিনি টানা ১০ বছর উপস্থাপনা করেছেন। একাত্তর টিভির ‘একাত্তরের সকালে’ অনুষ্ঠানেও তিনি নিয়মিত উপস্থাপক ছিলেন।
১৯৯৪ সালে তাজিন ‘দৈনিক ভোরের কাগজ’ ও পরে ‘প্রথম আলো’ পত্রিকায় কাজ করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি “নিজস্ব প্রতিবেদক” হিসেবে পরিচিতি পান। কিছুদিন কলাম লেখক হিসেবে ‘আনন্দ ভুবন’ ম্যাগাজিনেও লিখেছেন। ২০০২ সালে মার্কেন্টাইল ব্যাংক-এ জনসংযোগ কর্মকর্তার পদে যোগ দেন।
রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তাজিন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে নাট্যপরিচালক এজাজ মুন্না ও পরে সংগীতশিল্পী রুমি রহমানের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হলেও তা স্থায়ী হয়নি।
২০১৮ সালের ২২ মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সেদিনই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন এই প্রতিভাময়ী শিল্পী। পরদিন বনানী কবরস্থানে তাঁর বাবার কবরে পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
তাজিন আহমেদ আমাদের সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি অভিনয়, উপস্থাপনা, লেখালেখি ও সমাজচেতনায় ছিলেন সমান দক্ষ।
আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি।